সর্বশেষ খবর
Home / Uncategorized / ওরা ধর্ষক আর আমরা দর্শক….!!!

ওরা ধর্ষক আর আমরা দর্শক….!!!

মাহবুবা সুলতানা শিউলি

প্রকাশ : 11.07.19, সময় : 4.16 pm

মাহবুবা সুলতানা শিউলি

আমরা দর্শক তাই ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারিনা। পারিনা একটু শান্তিমত ঘুমাতে। তাই আমাদের আতংকের মাঝেই দিনগুলো অতিবাহিত করতে হচ্ছে। যে কোনো কাজে বের হলেও আতংকে থাকতে হয় আমার ছোট্ট মেয়েটা এখন কি করছে! ঠিক আছে তো! গোসলে ঢুকলে তখনও ভাবি আমার মেয়েটা না বলে ছাদে একাকী চলে গেলো কি ! ক্লান্তিতে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার আগেই আতংকিত হয়ে উঠে যেতে হয়, মেয়েটা কোথায় গেলো !!! এটা কি ধরণের শাস্তি আমাদের উপর! মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে আজ এদেশের বাবা-মায়েরা কি অপরাধ করেছে যে একটু শান্তিমত ঘুমাতেও পারবেনা আর সারাটাক্ষণ এক অজানা আতংকে আতংকিত থাকতে হবে!?
গত ৫ জুলাই’১৯ শুক্রবার, সন্ধ্যার পর শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্মিত ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে ৭ বছরের শিশু সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই ভবনের ছয় তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম ঢাকা নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত সে।
আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সায়মা তার মাকে বলে, ‘আমি উপরে পাশের ফ্ল্যাটে যাচ্ছি, একটু খেলাধুলা করতে (সে উপরের ফ্ল্যাটে প্রায়-ই মাসহ/মাছাড়াও নিয়মিত যেত খেলতে) এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সায়মা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নবম তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান।’
এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে সায়মার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের পর তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিশুটির উপর পাশবিক নির্যাতনের সব প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশি তদন্তে ধর্ষক হিসেবে রঙমিস্ত্রি হারুনকে শনাক্ত করা হয়। গত ৭ জুলাই সায়মার বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রতিদিনই পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায়, প্রথম পাতায় বা কোনো না কোনো পাতায় ধর্ষণের ঘটনা নিত্যকার সাধারণ একটি সংবাদ শিরোনাম। এবছরের প্রথমদিনই অর্থাৎ ১/১/২০১৯, সোমবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চার সন্তানের জননী পারুলকে গণধর্ষণ ও তার স্বামী ও সন্তানদের ব্যাপক মারধর করে নরপশু সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীনেতা ধর্ষক সোহেল ও বাকী ধর্ষকদের হয়ে যারা আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের আমরা কি বলতে পারি? মানবিকতা আজ লুন্ঠিত তাই আতংকিত হয়ে দিনান্তিপাত করাটাই আমাদের প্রাপ্য। আমরা পারিনা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করাতে যাতে ধর্ষক নামক পশুগুলোর মনে সে স্পৃহা কখনো জেগে না ওঠে।
পত্রিকা মারফত জানতে পারি, গতবছর ৩৫৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো আর ২২ জন শিশু মারা যায় আর এবছর এসংখ্যাটি মধ্য জুনের ভিতরই তার অধিক হয়েছে। জানিনা বছর শেষে সংখ্যাটি দ্বিগুণ হবে কিনা!!! অর্থাৎ ৩৯৯ জন শিশু ২০১৯ এর জুন পর্যন্ত ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে এবং ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এরমধ্যে এক ছেলে শিশুও আছে। শিশু সায়মা ধর্ষণ ও হত্যার একই দিন টিভিতে নিউজ দেখি এক মাদ্রাসার হুজুরের দ্বারা ১২ শিশুর বলাৎকার। আমাদের দেশের ছেলে শিশুগুলোও ধর্ষক নামক নরকীট গুলোর থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
এখন একটা জরিপের পরিসংখ্যান পাঠক সমীপে পেশ করতে চাচ্ছি। বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসে (জানুয়ারি থেকে ১৪ মে) ৩৪৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৪৯০ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সাড়ে ৪ মাসে ৩৪৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এর মধ্যে ৩৮ জন শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ৩৮ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। এগুলো হলো জরিপ চালানোর পর প্রাপ্ত তথ্য। ভিতরে ভিতরে আরও কতশত শিশু এ নির্মমতার শিকার হয়েছে তা কেবল ঐ শিশু ও তার পরিবারই জানেন।
এখন প্রশ্ন হলো, এ বিকৃত নরপশুদের থামাবে কে?
” কতটুকু অশ্রু গড়ালে হৃদয় হবে জলে সিক্ত,
কত প্রদীপ শিখা জ্বালালেই জীবন আলোয় উদ্দীপ্ত।
কত ব্যথা বুকে চাপালেই তাকে বলি আমি ধৈর্য,
নির্মমতা কতদূর হলে জাতি হবে নির্লজ্জ।
আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া
করিতে পারিনি চিৎকার।
বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।।
নিয়তির ডাকে দিলি যে সাড়া,
ফেলে গেলি শুধু নীরবতা।
যার চলে যায় সেই বোঝে যে হায়,
বিচ্ছেদে কি যন্ত্রণা।
অবুঝ শিশুর অবুঝ প্রশ্ন, কি দিয়ে দেব সান্ত্বনা।
আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া
করিতে পারিনি চিৎকার।
বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।।
বিধাতা তোমারে ডাকি বারেবারে,
কর তুমি মোরে মার্জনা।
দুঃখ সইতে দাও গো শক্তি, তোমারি সকাশে প্রার্থনা।
চাহিনা সহিতে আমার মাটিতে,
মজলুমেরই আর্তনাদ।
বিষাদ অনলে পুড়ে বারেবারে
লুণ্ঠিত হবে স্বপ্নসাধ।
আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া
করিতে পারিনি চিৎকার।
বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।। “

About Chattogram Post

Check Also

আগামী ২২ আগস্ট থেকে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ চ্যাট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেক্স ।। প্রকাশ : 17.08.19, সময় : 9.19 pm কাজের প্রয়োজনে কিংবা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার

বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : রুহি কম্পিউটার

আল-ফতেহ শপিং সেন্টার (৪র্থ তলা)

১৮২ আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

মোবাইলঃ 01670438670, 01819976697

ই-মেইলঃ chattogrampost@gmail.com