সর্বশেষ খবর
Home / Uncategorized / জলাবদ্ধতা ও প্রাসঙ্গিক কথা

জলাবদ্ধতা ও প্রাসঙ্গিক কথা

তসলিম খাঁ
প্রকাশ : 21.07.19, সময় : 12.28 pm
ফাইল ছবি
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সিডিএ উচ্ছেদ অভিযান চালায় তার জন্য অভিনন্দন পাবার যোগ্য সিডিএ। তারপরও কিছু কথা বলতে হয়। তা হলো, ২৬ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কেন শুধু ! নগরীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে হলে ২৬ লক্ষ অবৈধ স্থাপনা হলেও উচ্ছেদ করতে হবে। সেবার দায়িত্ব মাথায় নিয়ে সিডিএ এগিয়ে গেলে হয়তবা নগরবাসী কিছুটা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। তবে চেষ্টা করতে হবে নগরীতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি যেন সরতে বেগ পেতে না হয়। তার জন্য কিন্তু সব খাল-উপ-খাল, নালা-নর্দমা ও নতুন নালা নির্মান এবং সংঞ্চার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনও এগিয়ে আসতে হবে। সহযোগীতায় থাকতে হবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমুহ। পরিকল্পিতভাবে সম্ভলিত উন্নয়ন যাকে বলে এক কথা।
পৃথিবীর বহু দেশ নদীর পাড়ে রয়েছে আমাদের চট্টগ্রামের মতো শহর। সেখানে তো ব্যবহারের পানি কিংবা প্রাকৃতিক সৃষ্ট পানি সরে না গিয়ে পারে না। তার কারণ যথাযথ ব্যাবস্থাপনা। নদী খুব কাছে পানি না সরার কোন কারণ নেই। কাজ করতে হবে সেভাবে। আর মাষ্টার প্ল্যান অনুসরন করে তাও বাস্তবায়ন করা যায়।
১৯৮৮-৮৯ ও ৯১-৯৮ সাল থেকে জলাবদ্ধতা নিয়ে দেখেছি বহু সমাবেশ-আলোচনা, আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল-অবরোধ-অন্নশন-স্মরক লিপি প্রদান। সেই সব অন্দোলনের কথা তো মানুষ এখানো ভুলেনি। এবং কারা সেইসব সংগ্রামে জড়িত ছিলেন মানুষ আজও তাঁদের কথা মনে রেখেছেন নিশ্চয়। নাম বলতে হয় না। মনে পড়ে যায় তাদের। রাজনীতিক ও সব মহল বলতেই ভালভাবে চিনেন ও জানেন। তাঁদের মাঝের একজন সহযোদ্ধা আজকের সিডিএ’র চেয়ারম্যান। আমার কাছে যতটুকু মনে পড়ছে।
যাক, অন্দোলন-সংগ্রামের পর সেই থেকে আজ অবদি কিছু কিছু কাজ হলেও বৃহত্তরভাবে সে রকম কোন দেখার মতো কাজ হয়নি বলা যায়। পানিবন্দি নগরবাসীর চাহিদার তুলনায় সেটা খুবই অপ্রতুল। চাক্তাই খাল, মির্জা খাল-নোয়াখালসহ নগরীর বহু খাল আজ বেদখলে চলে গেছে ভাবতেও অবাক লাগে। কেন বেদখলে যাবে? খাল পাড়ের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে নির্মান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত নানা ধরণের অবৈধ স্থাপনা! পত্র-পত্রিকা খুললেই চুখে পড়ে এইসব সংবাদ। চরম দুঃখের বিষয়। আমারাই আমাদের পানি বন্দি করছি! শুধু বর্ষাকালে কেন? এমনিতেই তো পানি যাবার ব্যবস্থা তেমন করে নেই। শুধু নালা থাকলেই হয় না। সেই নালা দিয়ে পানি যেতে হবে। নালা-নর্দমার পানি থমকে থাকলে হবে না। চলতে হবেই। চালাতে হবে। সুদুর বাস্তাবিক পরিকল্পনা হাতে নিয়ে জলাবদ্ধতার জন্য যা যা ব্যবস্থা করা, তার দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারা চাইলে সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা কেন ৫০ হাজার কোটি টাকা চাইতে পারেন। তার জন্য তো কোন বাঁধা নেই। চাইতে তো পারা যায়। যেহেতু কাজ করতে হবে। -আমার চট্টগ্রামে এই সমস্যা, এই টাকা দিতে হবে, না হলে চট্টগ্রাম আগামীতে অচল হয়ে পড়বে। এই তো কথা।
আসলে কি সেবার দায়িত্ব মাথায় নিয়ে এগোলে কাজ হবেই। আর বর্ষামৌসুমে মিডিয়ার শিরোনাম “দুই ঘন্টায় ডুবি গেইয়্যি শ’অর” আর পড়তে হবে না।
লেখক- কবি-সাংবাদিক।

About Chattogram Post

Check Also

আগামী ২২ আগস্ট থেকে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ চ্যাট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেক্স ।। প্রকাশ : 17.08.19, সময় : 9.19 pm কাজের প্রয়োজনে কিংবা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার

বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : রুহি কম্পিউটার

আল-ফতেহ শপিং সেন্টার (৪র্থ তলা)

১৮২ আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

মোবাইলঃ 01670438670, 01819976697

ই-মেইলঃ chattogrampost@gmail.com