সর্বশেষ খবর
Home / Uncategorized / ভালোবাসা বিলিয়ে দিই মা-বাবাসহ পৃথিবীর অবহেলিত অসহায় মানুষদের প্রতি

ভালোবাসা বিলিয়ে দিই মা-বাবাসহ পৃথিবীর অবহেলিত অসহায় মানুষদের প্রতি

ডা. বরুণ কুমার আচার্য

প্রকাশ : 13.02.2020, সময় : 5.54 pm

‘ভালোবাসা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত মানবিক অনুভূতি এই ভালোবাসা নিয়ে ছড়িয়ে আছে কত কত পৌরাণিক উপাখ্যান। সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালোবাসার সন্ধান। ভালোলাগা আর ভালোবাসার প্রবৃত্তি মানুষের সহজাত। কিন্তু সহজাত এই প্রবৃত্তি প্রকাশ করায় জীবনও দিতে হয়েছে অনেককে। সাধারণত মানুষ ছাড়াও প্রতিটি প্রাণীর হৃদয়েও ভালবাসা আছে, আছে আবেগ অনুভুিত। জন্মসূত্রে এটি অর্জিত হয়। মানুষ বিবেক বুদ্ধি, জ্ঞানে অন্যান্য প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই সে সকল সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে খ্যাত। এই কারণে মানুষের অনুভূতি, আবেগ আর ভালোবাসা অন্যান্য প্রাণীদের চেয়ে শতগুণ আলাদা। সচরাচর প্রতিটি মানুষের অন্তরে ভালোবাসা বিরাজমান। ভালোবাসাকে নিয়ে যুগে যুগে যত গান কবিতা, নাটক, সাহিত্য রচিত হয়েছে অন্য কোনো বিষয়কে নিয়ে এতো রচনা হয়নি বলে আমার ধারণা। মানুষ সময় আর বয়সকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু ভালোবাসার বয়স বাড়ে না। তাই তাকে ধরে রাখতে পারে। তবে সময়ের পরিবর্তনে মানুষের মাঝে ভালোবাসার পরিবর্তন ঘটে থাকে। পিতামাতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা, বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, সহকর্মীর প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা। বিভিন্নভাবে এই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটতে পারে। তবে আজকাল প্রেম বা ভালবাসা বলতে প্রেমিকার প্রতি প্রেমিকের এবং প্রেমিকের প্রতি প্রেমিকার ভালোবাসাকে বেশি বুঝানো হয়। তাই জন্মসূত্রে পাওয়া ভালোবাসা নামের সেই অব্যক্ত অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যাদের জীবন দিতে হয়েছে তাদের মহিমান্বিত করতেই প্রতি বছরের নিদিষ্ট একটি দিনে পালন করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা ভালোবাসা দিবস। তবে প্রতি বছরের ১৪ ফেব্র“য়ারিই কেন ভালোবাসা দিবস উদযাপন করা হয় এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, ভালোবাসার জন্য এই দিনে মানুষের জীবন ত্যাগের ইতিহাস। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে রোমের ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। তিনি ছিলেন মানবপ্রেমিক ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্র“য়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

সেই থেকেই দিনটির শুরু। আরও একটি প্রচলিত কাহিনী আছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে নিয়েই। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর অনেক যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্র“য়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। গত কয়েক বছর আগেও দিবসটি নিয়ে এমন মাতামাতি করতে দেখা যায়নি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে আছে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য। যার সাথে এই দিবসটি মানায় না। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ, সামজিক মুল্যবোধ এবং ধর্মীয় মুল্যবোধ অন্যান্য জাতির চেয়ে গর্ব করার মতো। আমাদের মধ্যে ভালবসার ঘাটতি কম। যদি কেউ এই দিবসটি পালন করতে চান, করুন। কিন্তু দিবসটি পালনে এমন মাতামাতি করা ঠিক হবে না যাতে আমাদের এই নিজস্ব সাংস্কৃতির সাথে, আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। বর্তমানে ওয়াইফাই যুগের ভালোবাসা এক দিনের দিবস পালনের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসার দিবস পালন করতে হয় না। এই ভালোবাসা যুগে যুগে নতুন তা পুরানো হয় না। এমন অনেক ঘটনা যুগে যুগে ছিল। তা আজো আছে। প্রেম জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিছুই মানে না। তাইতো যুগে যুগে অনেক অসম প্রেমের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে মনের মানুষকে ভালবাসা দিয়ে অবশিষ্ট ভালবাসা বিলিয়ে দেই পৃথিবীর অবহেলিত অসহায় শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নারী-পুরুষের মাঝে। আমার জন্মদাতা বাবা-মা হোক আমার শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার অনুষঙ্গ। কেননা জন্মের পরপরই আমরা তাঁদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি বা আমাদের মানুষের মতো মানুষ করতে তাঁদের যে আত্মত্যাগ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ও স্মরণীয় করে রাখতে তাঁদের প্রতি ভালোবাসার দায় কখনো শেষ হওয়ার নয়। ভালোবাসার এই আকুলতা নিয়ন্ত্রনহীন। এইখানেই প্রেমিক মনের সার্থকতা। তাই আজকের এই সময়ে শুধু মনের মানুষ প্রিয়জনকে নিয়ে ভালোবাসার এই শব্দটি আবদ্ধ না রেখে এর ব্যাপকতা ছড়িয়ে দিই পরিবার, সমাজ ও দেশের মানুষের প্রতি।

লেখক:    প্রাবন্ধিক।

About Chattogram Post

Check Also

চারটি ধাপে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন

পোস্ট ডেক্স ।। প্রকাশ : 26.02.2020, সময় : 6.26 pm দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : নিজাম উদ্দিন মাহমুদ হোসাইন

সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার

বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : রুহি কম্পিউটার

আল-ফতেহ শপিং সেন্টার (৪র্থ তলা)

১৮২ আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

মোবাইলঃ 01670438670, 01819976697

ই-মেইলঃ chattogrampost@gmail.com