প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 12, 2025 ইং
কথা নিয়ে রাজনীতি করা যায় ফ্যাসিজমের সামনে জেলে যেতে পারে না সবাই

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন এক বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে রাজনীতির ভেতরে-বাইরে। তার দাবি, সারাদেশ নয়, নিজ এলাকার এক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক মামলা হলে তা প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। সারাদেশের মামলা প্রত্যাহারের কথা বলেননি। তারপরও সমালোচনা থামেনি। এমন অবস্থায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সমালোচনাকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লিখেছেন, কথা নিয়ে অনেক রাজনীতি করা যায়, ফ্যাসিজমের সামনে দাঁড়িয়ে জেলে যেতে পারে না সবাই!
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জেলজীবনের স্মৃতি, শতাধিক মামলার আসামি হওয়া থেকে শুরু করে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে লাখ লাখ মামলার কথা তুলে ধরেন। কারাগারের ভেতরে-বাইরে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা, শাস্তি নিশ্চিতেরও কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
হাতের কারুকাজ সম্বলিত একটি ব্যাগের ছবি শেয়ার করে মির্জা ফখরুল লিখেছেন, আমার মেয়ে যখন আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল, ঢাকা জেলে। এই ব্যাগটা আমি ওকে দিয়েছিলাম। ব্যাগটা জেলের ভিতরে এক বন্দী বানিয়েছিল তার কাছ থেকে কিনেছিলাম। জানিনা, কাউকে কল্পনায় রেখে সে বানিয়েছিল কি না এই ব্যাগটা। প্রশ্ন করা হয়নি ছেলেটাকে।
আওয়ামী লীগ আমলের কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের জেলে লাখ লাখ কর্মী বন্দী ছিল, মিথ্যা মামলায়। আমার নিজের জেলার হাজার ছেলের পুরো জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমি নিজে আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এর করা ১১০ এর বেশি মামলার আসামি ছিলাম। ময়লার গাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে হত্যা মামলা। সব মিথ্যা মামলা। আড়াই বছরের বেশি জেলে ছিলাম। কোর্টে কোর্টে আমার অসুস্থ স্ত্রী দৌড়ে গেছে। আসিফ নজরুল একবার পত্রিকায় লিখেছিলেন একটি কলাম ‘রাষ্ট্র বনাম মির্জা ফখরুল’। জেলে মাটিতেও শুতে হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছে, নির্বাচনে আসুন, মুক্তি পাবেন। আমরা প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। ৭ বার জামিন রিজেক্টেড হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট