প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 15, 2025 ইং
সাজেকে বনবিভাগের অফিস ভাঙচুর সড়ক অবরোধ চেষ্টা প্রতিহতে সেনাবাহিনী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির সাজেক এলাকায় বনবিভাগের সরকারি ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার ঘটনায় সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনা সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন বাঘাইহাট সেনা জোনের সাজেক মাসালং সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দক্ষিণ একুজ্জাছড়ি পাড়ার ১৪ মাইল এলাকায় ইউপিডিএফের একটি গ্রুপ বনবিভাগের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে আদালতের রায় উপেক্ষা করে কথিত একটি স্কুল নির্মাণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গত ১৪ ডিসেম্বর বনবিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদের পর ‘স্কুল নির্মাণ’কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে একটি কুচক্রী মহল। অভিযোগ রয়েছে, ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমার নেতৃত্বে একটি দল বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে সাজেকের মাসালং বাজার এলাকায় অবস্থিত বনবিভাগের কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় বনবিভাগের বনরক্ষী মো. আশরাফুল আলম গুরুতর আহত হন।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে বাঘাইহাট সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে গাছ কেটে ও গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সাজেকে যাতায়াতকারী বহু পর্যটক দীর্ঘ সময় আটকা পড়েন এবং পর্যটন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মাচালং সেনা ক্যাম্প ও বাঘাইহাট জোন সদর থেকে সেনাবাহিনীর একাধিক টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনা সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে ফেলে রাখা গাছ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন এবং পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
সেনা কর্মকর্তারা জানান, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু নিজস্ব মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বাঘাইহাট সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মনিরুল ইসলাম, বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। কোনো অবৈধ সংগঠনকে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী নিয়মিত উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন অভিযানও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন বাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় শিক্ষা সহায়তা, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সাজেকের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিঁড়ি নির্মাণ, ঘর নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং চিকিৎসা সেবাও প্রদান করেছে সেনাবাহিনী।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট