
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোতে নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতাকেও প্রতিপাদ্য করা যেতে পারে। এতে তরুণরা এ সমস্যা নিয়ে কী ভাবছে এবং তাদের নতুন নতুন সমাধানের ধারণা কী, তা সামনে আসবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে নগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আমা কফি ও দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টের ১৪তম গ্র্যান্ড ফিনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মেইক লোকাল, বিজনেস গ্লোবাল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল চট্টগ্রামের পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করতে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন।
গত ৩ জুলাই চট্টগ্রামের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি দল নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বাছাই পর্ব শেষে চারটি দল গ্র্যান্ড ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে প্রতিযোগীরা পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রচারণা, কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বিচারকদের মূল্যায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, দৃষ্টি চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সামাজিক ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা-মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে পর্যটনের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার মতো নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যাও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিযোগিতার বিষয় হতে পারে। এতে তরুণদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী সমাধান সামনে আসবে।
তিনি বলেন, শুধু সাধারণ চোখে নয়, মনের ভেতরের তৃতীয় দৃষ্টি বা দূরদর্শিতা দিয়েও চারপাশকে দেখতে হবে। দৃষ্টি চট্টগ্রাম সেই দূরদর্শী ও সৃজনশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজ করছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, চসিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে এর সুফল পাওয়া গেলেও কিছু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ শহরের অনেক ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকে। মানুষ নিজেরা সচেতন না হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু মেয়রের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে চসিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলেও বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর নজরদারির ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। কোনো পাহাড়খেকো চক্র যাতে নতুন করে সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে চসিক সবসময় সতর্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার। এ ছাড়া, বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আদনান মানান, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহ সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সাবের শাহ, নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী মুন্না মজুমদার, প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন মুন্না এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী মুজিবুল হক।
অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।