প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 25, 2025 ইং
বহুমুখী সংকটে কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ শুরুতে থমকে গেছে ভবন নির্মাণের কাজ

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম
বহুমুখী সংকটে পতিত হয়েছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ। কক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে ও
জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি মধ্যে পাঠ গ্রহণ করছেন এ কলেজের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী।
জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট ও জনবল সংকটে ধুঁকছে ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি। ভবন সংকটের কারণে অযত্ন অবহেলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লাইব্রেরীর মূল্যবান দলিল ও বই। অবহেলায় পড়ে রয়েছে রসায়ন বিভাগের ল্যাব ও আইসিটি ল্যাবের যন্ত্রাংশ। শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার অযোগ্য দুইটি জরার্জীণ ভবনেই চলছে নিত্য পাঠদান।
জানা গেছে, কলেজের জরাজীর্ণ দুইটি পুরাতন ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। ছাত্রাবাসগুলো ব্যবহার অযোগ্য হয়ে গেছে বহুবছর আগে। নেই শিক্ষকদের থাকার ব্যবস্থাও। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত কলেজে বেড়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা। বেহাত হচ্ছে কলেজের জায়গা। চুরি হচ্ছে মূল্যবান সামগ্রী।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ কলেজে রয়েছে রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রির বিবিএস, বিএসসি, বিএ, বিএসএস পাস কোর্স ও অনার্সে ৫২৩৭ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন। এর মধ্যে ২৬৯৬ জন ছাত্রী ও ২৫৪১জন ছাত্র।
দ্বিতল বিশিষ্ট জোড়াতালি দেওয়া দুই ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কক্ষ সংকটের কারণে কোনো এক শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে বন্ধ থাকে অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান। শ্রেণি কক্ষের ছাদ ছুঁয়ে পড়ে পানি।
তারপরও চলছে এ বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। শ্রেণি কক্ষের ছাদ বিমে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার আর ভবন ধসের ঝুঁকি নিয়ে চলে অতিথি শিক্ষকদের পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। তবে ২০১৯ সালে ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন বরাদ্দ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। সেই ভবন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। নাম মাত্র এক কোটি ৯ লক্ষ টাকার কাজ করে ঠিকারদার পালাতক হওয়ায় মুখ তুবড়ে পড়ে আছে। কলেজ সুত্রে জানাযায় সারাদেশে ৩০০ শিক্ষা ভবন অনুমোদন হয়ে কাজ ও হয়ে যায়।কিন্তু একমাত্র বোয়ালখালী স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ কাজের টেন্ডার বাতিল হয়।
প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনের বেশ কয়েকটি কক্ষ ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জয়নাল আবেদিন ।
তিনি জানান, কলেজে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের পদ রয়েছে দুই থেকে তিনটি। এর মধ্যে শিক্ষকের ৮টি পদ শূণ্য। ফলে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। নতুন করে আরো পদ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। আইসিটি বিভাগে মাত্র একটি পদ। সে পদে নিযুক্ত প্রভাষক প্রশিক্ষণে থাকায় আইসিটির পাঠদান বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেন, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ রয়েছে ১৬টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। এ সংখ্যক জনবল নিয়ে কলেজ পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। ১৯.৪ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের রক্ষাবেক্ষণ করাটাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
অধ্যক্ষ আরো বলেন, কলেজের লাইব্রেরীতে ১৩ হাজার ৪৬৯টি বই রয়েছে। যা অত্যন্ত মূল্যবান দলিল। সংগৃহীত এসব বই ছাদ ছুঁয়ে পড়া পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক বই ইতিমধ্যে উই পোঁকা খেয়ে ফেলেছে। যতটুকু পারছি রক্ষা করা চেষ্টা করছি। লাইব্রেরীয়ান না থাকায় নিজে ও এমএলএসএস দিয়ে লাইব্রেরীর দেখাশোনা করছি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট