প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 28, 2026 ইং
লোহাগাড়ায় ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দায়িত্বে ছাত্রলীগ নেতা

আব্দুল ওয়াহাব লোহাগাড়া চট্টগ্রাম:, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা কেন্দ্রসমূহে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সিসিটিভি ক্যামেরার স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছেন শহিদুল ইসলাম কাইসার নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ডান হাত নামে পরিচিত।
একজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে তা কতটুকু নিরাপদ হবে তা জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উনি ছাত্রলীগ করতেন সেটা আমার জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে প্রথম শুনেছি। তবে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলায় উনি কাজ করেছেন তাই আমিও উনাকেই দিয়েছি।’
এদিকে সরকার এখনও যেখানে সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি ভোট কেন্দ্রমুখি করে তুলতে পারেনি সেখানে তাদের মাঝে এমন একটা খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রশাসনে যারা কাজ করে তাদের আরো সচেতন হওয়া দরকার। যেহেতু আমরা এখনও স্বৈরাচারকে স্বমূলে উৎখাত করতে পারিনি সেহেতু সরকারি যেকোনো কাজে আরো অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কেননা আওয়ামীলীগ অপেক্ষায় আছে যেকোনো সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা যদি আরো আগে জানতাম তাহলে ব্যাবস্থা নিতে পারতাম। কিন্ত এমন একটা সময়ে জাতে পরেছি যখন কিছুই করা সম্ভব না। তবে আমাদের অনেক ভাল সিকিউরিটি টিম আছে। সুতরাং কোনো সমস্যা হবেনা।’
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শহিদ জানান,তাকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিসি ক্যামেরা বসানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী প্রধান সমন্বয়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী লেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাকে সরিয়ে অন্যজনকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই উদ্বেগের। আমরা এটি প্রশাসনকে অবহিত করবো।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট