
শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারটায় চট্টগ্রাম ৯ সংসদীয় আসনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাথাল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীর ইশতেহার পাঠ করা হয়।
গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ইশতেহারের সাথে সমন্বয় করে এবং উক্ত আসনের বিশেষত্ব বিবেচনায় পরিবর্তনের ৯ দফা ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের নগরীর সার্বিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার প্রদানসহ জনাব রুমীর ৯ দফা ইশতেহার:
১. গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাক্স আইন বাতিল:
অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল আইন করা, কর ব্যবস্থাকে নাগরিকবান্ধব ও স্বচ্ছ করা, কর নির্ধারণে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
২. স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক সংস্কার:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিসর ও সক্ষমতা বিস্তারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ গড়ে তোলা।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা। প্রত্যেক ওয়ার্ডভিত্তিক একটি করে কমিউনিটি হাসপাতাল স্থাপন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
প্রত্যেক নাগরিকের জন্য 'হেলথ কার্ড' প্রচলন করা।
৩. নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকের জন্য সেবা:
কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্নে প্রবীণ নাগরিক ক্লাব ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা। প্রবীণ নাগরিক, নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাগরিকের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা।
৪. প্রাণ, প্রকৃতির সুরক্ষা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান:
পাহাড় ও খাল দখলমুক্ত এবং প্রাণ, প্রকৃতি সুরক্ষিত করে আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। বিশেষজ্ঞ নগর পরিকল্পনাবিদের পরামর্শ ও অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
৫. যানজট নিরসন ও গণপরিবহন:
সমন্বিত পরিকল্পনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো; নারী, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাগরিকবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রচলন করা; হাঁটা ও বাই-সাইকেলবান্ধব সড়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
৬. নাগরিক পরিষেবা ও বাণিজ্য:
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করা, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে নাগরিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সকল সেবা এক টেবিলে নিশ্চিত করা (এক টেবিল নীতি)। বাণিজ্য মন্ত্রনালয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা। ব্যবসা সম্পর্কিত সকল সরকারি পরিষেবা উদ্যোক্তাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা।
৭. কর্মসংস্থান, তারুণ্য ও ক্রীড়া:
তরুণ বেকারদের জন্য আইটিসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কর্মসূচি চালু করা। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া।
ক্রীড়াবান্ধব নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা। দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির নিমিত্তে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণ যুবক ও যুব নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। প্রত্যেক এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর ও আউটডোর খেলার মাঠ নির্মাণ করা।
৮. শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা উন্নয়ন:
সুযোগের সমতা বিধান করার লক্ষ্যে নূন্যতম দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তৃত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
আবহমান কালের চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং চট্টগ্রামের বারোয়ারী সকল উৎসব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদযাপন।
৯. নগর পরিকল্পনায় নাগরিক অংশগ্রহণ ও মাস্টার প্ল্যান:
বিশেষজ্ঞ নগর পরিকল্পনাবিদের পরামর্শ ও নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে মাস্টার প্ল্যান ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান প্রণয়ন করা ও উক্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়নে নাগরিক তদারকি নিশ্চিত করা।