প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং
তেল সংকটে পরিবহন খাতে অস্থিরতা

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশের পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বেড়ে গেছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রেইলরের ভাড়া। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে শুরু করে আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে। পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে গতকাল পণ্যে চাপ না থাকায় ভাড়া কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে। আজ থেকে আবার ভাড়া বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংগ্রহে সমস্যার কারণে পরিবহনব্যয় দ্রুত বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইসাথে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনেও পরিবহনব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোৎপাদনেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উৎপাদনব্যয়ও বাড়ছে।
সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেইলর ঢাকা এবং গাজীপুরসহ সন্নিহিত অঞ্চলে যেতে ৪০–৪২ হাজার টাকা ভাড়া নিত। তেল সংকটের প্রভাবে এখন ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া ২০–২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৭–৩৮ হাজার টাকা হয়েছে। ফিরতি পথে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পণ্য আনার ভাড়াও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। আগে ঢাকা থেকে ২৪–২৫ হাজার টাকা ভাড়ায় যে ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রামে পৌঁছাত তা এখন আসছে ৩৮ হাজার টাকায়। একইভাবে ট্রেইলর ভাড়াও ৭০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। উত্তরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসা গাড়ির ভাড়াও একইভাবে বেড়ে গেছে।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার চেয়েও কম তেল দেওয়া হচ্ছে। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে আগে ১০/১২ ঘণ্টায় যে যাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হতো এখন তা দুদিনও লাগছে। ফলে একাধিক ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে যানবাহনের কার্যক্রম কমে গেছে এবং বাড়তি খরচ সামাল দিতে ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেক ট্রাক মালিক তেলের অভাবে যানবাহন বন্ধ রাখছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে প্রতিটি পাম্প ঘিরে শত শত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। ফলে গাড়ির সংখ্যাও কমে গেছে।
চট্টগ্রামের একজন পরিবহন মালিক বলেন, একমুখী পণ্য পরিবহনের কারণেও ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে। আগে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া গাড়ি ফিরতি পথে ঢাকা বা সন্নিহিত অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরত। এতে দুদিকের ভাড়া হিসেব করে মোটামুটি চলে যেত। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পরিবহনের মতো পর্যাপ্ত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বহু গাড়ি পণ্য নিয়ে ঢাকা, গাজীপুর কিংবা নারায়ণগঞ্জ গেলেও সেগুলো খালি অবস্থায় চট্টগ্রামে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে পরিবহন মালিকদেরকে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দর বা শিল্পপণ্য নয়, কৃষিপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের পরিবহনে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
পরিবহনব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গার্মেন্টস সেক্টরেও বাড়ছে উদ্বেগ। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে নিজস্ব খরচে পণ্য বন্দরে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু তেলের সংকটের কারণে কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া কয়েকদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কাভার্ড ভ্যান এবং ট্রাকের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল এবং তৈরি পোশাক পরিবহনের ব্যয়ের উপর প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে তেল–গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করলেও এর ফলে পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই সুযোগে পরিবহনব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়তে থাকলে বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাবে।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রামে পরিবহন ভাড়া হঠাৎ করে কমে যায়। বন্দর থেকে পণ্য খালাস কমে যাওয়ায় ভাড়া কমে গেছে জানিয়ে সূত্র বলেছে, আজ যদি পণ্যের প্রেসার বাড়ে তাহলে ভাড়া আবার বেড়ে যাবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট