
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে ভ্যাট কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার সাথে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে তথ্য দিয়েছে র্যাব।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, ঘটনার রাতে ছিনতাইকারী চক্রের চারজন অটোরিকশাসহ অপেক্ষায় ছিল। বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামলে চালক ও যাত্রী বেশে থাকা তিনজন তাকে ডেকে অটোরিকশায় তোলে। এরপর অস্ত্রের মুখে তাকে মারধর করে মোবাইল-মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।
মহাসড়কের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব বলছে, তারা সবাই ‘পেশাদার ছিনতাইকারী’।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, সুজনের কাছ থেকে বুলেট বৈরাগীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন ৩৫ বছর বয়সী কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার মা নীলিমা বৈরাগী। পরদিনই এ ঘটনায় ৫ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়েছিলেন র্যাব-১১ অধিনায়ক সাজ্জাদ হোসেন।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরো অনেকেই জড়িত আছে। পরবর্তী তদন্তে সেসব বের হয়ে আসবে।”
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোতে তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠন করে আসছিল। ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে। সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভিক্টিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভিক্টিমকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং ভিক্টিমের সাথে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভিক্টিমকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে বুলেট বৈরাগী মারা যান বলে জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।
পুলিশও জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগীর মাথার পেছনে গুরুতরভাবে থেঁতলানো ছিল।