
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সকালে মেয়র নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রজাপতি রোডস্থ সিডিএ খাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তিনি ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাটগড় মোড় থেকে চর পাথরঘাটা পর্যন্ত চলমান নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকি করেন। এরপর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দার পাড়া থেকে টিজি অফিস সাগরপাড় পর্যন্ত পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, “৪১ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিমানবন্দর থাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। তাই এই এলাকাসহ পুরো নগরীকে সবসময় জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশন ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যদি ড্রেন ও খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে, তাহলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরী আমাদের সবার, তাই এটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।”
মেয়র আরও বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নালা-নর্দমা ও খালসমূহ পরিষ্কার করার লক্ষ্যে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি খাল খনন, খালের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বন্ধ মুখগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকে এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।
এসময় তিনি মুসলিমাবাদ খাল পরিদর্শন করে খালটি দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, “প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেয়। এজন্য বাসাবাড়ি, মার্কেট, ভবনের ছাদ কিংবা এসির ভেতরে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধি, সেবাদানকারী সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, সহকারী প্রকৌশলী রূপক চন্দ্র দাশ, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা,সহকারী ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী ইন্জিনিয়ার মো: মোহাইমিনুল ইসলাম,
মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের এপিএস মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ), মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।