প্রিন্ট এর তারিখঃ May 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 22, 2026 ইং
অভিযুক্তকে নিয়ে ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ পুলিশ, টিয়ার শেল-ফাঁকা গুলি

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় নিতে গিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল পুলিশ। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল চারটা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন (৩৬) চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছরের শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তবে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাত ৮টার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এসময় সাংবাদিক, পুলিশ, জনতাসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ কৌশলে মনিরকে একটি ভবন থেকে বের করে থানায় নিয়ে যায়। এরপরও উত্তেজিত জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা।
বাকলিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক বলেন, উত্তেজিত জনতার মধ্যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ঢুকে জনতাকে উস্কে দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে তারা একটি কমিউনিটি হলেও ভাঙচুর চালায়। পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিক ও অন্যদের খোঁজ-খবর নেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সূত্র জানিয়েছে, শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটকের পর মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাকে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট