প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 17, 2025 ইং
চকরিয়া - লামায় ৩ ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন শ্রমিকদের অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ

মুহাম্মদ ওসমান সরওয়ার
বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মানিকপুর ও বান্দরবানের লামার ফাইতং এলাকায় তিন ইটভাটার চুল্লি গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
জানা যায়, চকরিয়ার মানিকপুর ও লামার ফাইতং এলাকায় সরকারি জমি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ অভিযানে তিনটি অবৈধ ইটভাটার চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন এবং ঢাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম।
অভিযানে লামা উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বনবিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানকালে মো. গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন এএমবি-১, এএমবি-২ ও এএমবি-৩ নামের তিনটি ইটভাটার চুল্লি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং অবৈধ কাঠামো ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়রা ও বিভিন্ন ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা অভিযানের আগে ভাটা বন্ধ না করার দাবিতে মানববন্ধন ও পথসভা করেন।এমনকি এসময় অনেক শ্রমিক এবং মালিক কর্তৃপক্ষকে কাফনের কাপড় পরিহিত অবস্থায় প্রতিকী অনশন করতে দেখা যায়। তারা জানান, ইটভাটাগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শ্রমজীবীরা এসব ইটভাটায় কর্ম করে তারা তাদের জীবন -জীবিকা নির্বাহ করে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, অনুমোদনবিহীন ইটভাটা পরিচালনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ধোঁয়া ও ধূলিকণার কারণে আশপাশের এলাকার ফসল, ফলের বাগান এবং বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করতে অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয় বনবিভাগের এক কর্মকর্তা চট্টগ্রাম পোস্টকে বলেন এসব ইটভাটার কারণে বনভূমি অবৈধভাবে দখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তাই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে পাহাড়ি বন ও সরকারি জমি রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্র জানা যায়, চকরিয়া- লামার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই অভিযানগুলো জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদরা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ১৭% বনাঞ্চল থাকা অত্যাবশকীয়,এসব ইটভাটার কারণে বর্তমানে সেরূপ বনাঞ্চল নেই বললেই চলে। অধিদপ্তরের এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অবৈধ ইটভাটা চালু থাকলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তবে স্থানীয়দের জীবন- জীবিকার কথা উপেক্ষা মোটেও সমীচীন করার মত নয়।
তাই সরকার বাহাদুরের উচিত জনগণের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাতে কেউ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট