প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 18, 2025 ইং
বাজারে আসছে নতুন আলু কৃষকের মুখে হাসি

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
শীতের আমেজ পুরোপুরি নেমে না আসলেও নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন আগাম আলুর সবুজ ঢেউ। ভোরের হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে গেলে আলুর পাতায় জমে থাকা শিশির কণা যেন একেকটি স্বপ্নের মতো ঝলমল করে ওঠে। এ স্বপ্নই যেন এ বছর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে এখানকার কৃষকদের। গত বছরের হতাশা কাটিয়ে আগাম আলুকে ঘিরে কৃষকের মুখে আবারও ফুটেছে হাসি।
দেশের আগাম আলুর ‘আতুঁরঘর’ হিসেবে খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, এখান থেকেই দেশের বাজারে প্রথম আসে নতুন আলু। আর সেই আলুর দামের ওপর ভিত্তি করেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে চলার গতি নির্ধারিত হয়। গত বছর বৈরী আবহাওয়া, রোগবালাই আর কম দামের কারণে চাষিদের মুখে ছিল দুশ্চিন্তা। তবে এবার মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আবহাওয়া অনুকূলে, রোগবালাই নেই, ফলনও প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর যেখানে ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু হয়েছিল, এবার চাহিদা বাড়ায় তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৭৬৫ হেক্টর। তবে মোট আলু চাষের জমি কিছুটা কমেছে। গত বছর ২৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে আলু হয়েছিল, বাজারদর ভালো না থাকায় এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার হেক্টরে।
মাগুড়া, বড়ভিটা, অবিলের বাজার কিংবা নিতাই যেদিকেই তাকানো যায়, দেখা যাচ্ছে কচি সবুজ পাতার সারি। কেউ নিরাই করছেন, কেউবা কেল বেঁধে দিচ্ছেন। মাঠে এখন কর্মব্যস্ততার চিত্র। কৃষিকাজে নারী-পুরুষ শ্রমিকেরও রয়েছে ভালো চাহিদা। নারী শ্রমিকেরা মজুরি পাচ্ছেন ৩৫০-৪৫০ টাকা, আর পুরুষেরা পাচ্ছেন ৪০০-৫০০ টাকা।
মাগুড়া পাম্পপাড়া এলাকার চাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর পাতা-ডাল ঠিকমতো হয়নি, ফলনও কম ছিল। এবার আল্লাহ রহমত করছেন। রোগবালাই নেই। এক বিঘায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হলো। ভালো ফলন হলে ৪০-৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর বাজার ভালো না থাকা সত্ত্বেও এক বিঘায় ৩৪ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলাম।
পাশের গ্রামের আরেক চাষি সাব্বির হোসেন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছেন। এবছর ১০০ বস্তা আলু পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তার ভাষায়, বাজারদর যদি ৬০-৮০ টাকার মতো থাকে, তাহলে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মতো বিক্রি করা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে আগাম আলুর ফলন এবার বেশ ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ১৫৬ হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হলেও মাঠের অবস্থা দেখে আমরা খুবই আশাবাদী। সম্ভবত ১৫-২০ দিনের মধ্যেই বাজারে পাওয়া যাবে নতুন আলু।
ন্যায্য দাম পেলে কৃষকেরা এবছর লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট