ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পেপারলেস হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোলো চট্টগ্রাম বন্দর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
পেপারলেস হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোলো চট্টগ্রাম বন্দর ছবির ক্যাপশন: পেপারলেস হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোলো চট্টগ্রাম বন্দর
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) বন্দরের ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম ( টিওএস) চালু করেছে। এর মাধ্যমে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) আবেদন থেকে শুরু করে পণ্য বা কন্টেনারের চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে। ফলে কাগজনির্ভর বা ম্যানুয়াল ডকুমেন্টেশন পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে জাহাজের চলাচল এবং বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেনার মুভমেন্ট পরিচালনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হলেও ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ছিল না। এতদিন শুধু ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার আবেদন ও জেনারেশনের ধাপ দুটি অনলাইনে সম্পন্ন হতো। পরবর্তী সব কার্যক্রম কাগজভিত্তিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। নতুন আপগ্রেডের মাধ্যমে এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ একই ডিজিটাল টিওএস ইকোসিস্টেমের আওতায় সম্পন্ন হবে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ধাপ হবে সম্পূর্ণ ধারাবাহিক ও স্বয়ংক্রিয়। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট একটি ধাপ সম্পন্ন না করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে না। একটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হওয়ার পরই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ধাপ উন্মুক্ত করবে। নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিপালন (কমপ্লায়েন্স) নিশ্চিত করতে বন্দরের টিওএসকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল–টাইমে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো কন্টেনার বা চালান হোল্ড বা ব্লক করলে সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বন্দরের সিস্টেমে প্রতিফলিত হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ফাইলের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া এগোবে না।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ডেস্কে ডেস্কে ঘুরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। এতে ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক–রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় ও ব্যয় কমবে।

এ ছাড়া প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে যাচাই হওয়ায় জাল নথি ব্যবহার, প্রতারণা ও প্রশাসনিক অনিয়ম প্রতিরোধ সহজ হবে। ব্যবহারকারীরা নিজ নিজ অনলাইন প্যানেলে লগইন করে যেকোনো সময় তাদের ডকুমেন্ট বা চালানের বর্তমান অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দক্ষ হবে। একই সঙ্গে কাগজ ও প্রিন্টিংয়ের ব্যবহার কমে পরিবেশবান্ধব বন্দর পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে। আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি