ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি মানুষের মিলছে না শুকনো খাবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 12, 2026 ইং
কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি মানুষের মিলছে না শুকনো খাবার ছবির ক্যাপশন: কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি মানুষের মিলছে না শুকনো খাবার
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় বেঁড়িবাধ ভেঙে মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুদিন বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টির পর পানি বাড়তে শুরু করেছে। 
জানা গেছে, এখনো কুতুবদিয়া-পেকুয়ার সিংহভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পানি বাড়ার কারণে মানুষের কপালে অনেকটা চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মানুষ খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করছেন। কিন্তু দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্রের মাছ শিকারের ফলে এই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলায় লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা, ধুপি পাড়া, দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লার পাড়া, বাতিঘর, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া, বাকখালীসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। 

সবচেয়ে বেশি বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমর সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও দ্বীপের বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। 
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল, জেলে পাড়া, বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, আজম কলোনি, কালাইয়া পাড়া, দক্ষিণ অমজাখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া, নজর আলী মাতবর। 

এদিকে পেকুয়া উপজেলার টইটং,বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এখনো পানিবন্দি রয়েছে। সাধারণ মানুষ চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা।

উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, শনিবার ইউএনও আসছিলেন কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো কথা শুনেননি। আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না, আমাদের ছেলে মেয়ে না খেয়ে রয়েছে। কেউ সাহায্য সহযোগিতাও করছে না। নেতারা চারপাশে বাঁধ দিয়ে রেখে আমাদের ডুবিয়ে মারছে। 

বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছে। অনেকেই মাছ ধরার জন্য ইচ্ছা করে স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে রাখে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নিজের সব সহায় সম্বল হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা কৃষক হারুন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, টানা ভারি বৃষ্টির প্রথম রাতেই আমার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। পানির উচ্চতা এতটাই বেশি ছিল যে চোখের সামনে ঘরের হাঁড়ি-পাতিলসহ সব আসবাবপত্র ভেসে গেছে। অল্প কিছু জিনিসপত্র কোনোমতে উদ্ধার করে এখন পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। 

​অনেকটা কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ঘর হারানোর কষ্টের চেয়েও বড় কষ্ট হলো আমার মাছের ঘেরটা ভেসে গেছে। মাছের ঘের ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল, আমাদের একটু খোঁজ নেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো নজরদারি করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদারকির কাজে যুক্ত রয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের টিম কাজ করছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। শুকনো খাবার বিতরণ কাজ চলমান রয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়