ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চসিক থেকে বদলি হওয়া আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতিসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় কড়া নিষেধাজ্ঞা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2026 ইং
চসিক থেকে বদলি হওয়া আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতিসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় কড়া নিষেধাজ্ঞা ছবির ক্যাপশন: চসিক থেকে বদলি হওয়া আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতিসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় কড়া নিষেধাজ্ঞা
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

​দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলায় দেশ ছাড়ার গুঞ্জনের মুখে দেশের চার সিটি করপোরেশনের চার প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতিও রয়েছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই চার কর্মকর্তা যাতে কোনোভাবেই গোপনে বিদেশে পালাতে না পারেন, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​গত ২৬ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি অত্যন্ত গোপনীয় চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে পরিষ্কার জানানো হয়, অভিযুক্ত এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত চলাকালে তাঁদের বিদেশ গমনের পথ বন্ধ রাখা জরুরি।

যাঁদের দেশত্যাগে এই নিষেধাজ্ঞা

​নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা মূল কর্মকর্তারা হলেন:

১. মো. আনিছুর রহমান: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। (পাসপোর্টের মেয়াদ: ৩ এপ্রিল ২০৩২)

২. কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক এবং বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনে স্থানান্তরিত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। (পাসপোর্টের মেয়াদ: ৩ আগস্ট ২০৩৫)

৩. মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), যিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশের আওতায় রয়েছেন। (পাসপোর্টের মেয়াদ: ৪ মার্চ ২০২৮)

৪. ফারজানা মুক্তা: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব), যিনি রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশের আওতায় রয়েছেন। (পাসপোর্টের মেয়াদ: ৪ মার্চ ২০২৮)

​সম্পর্কে প্রকৌশলী শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তা স্বামী-স্ত্রী।

তদন্ত শেষ না হতেই বিদেশ পালানোর আশঙ্কা

​গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সরকারি নথিতে বলা হয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তা আইন এড়িয়ে গোপনে রাষ্ট্র ছাড়তে পারেন। এমন আশঙ্কায় স্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁদের বিদেশযাত্রায় জরুরি বাধা দেওয়ার আবেদন জানান। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দেশের সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টকে সতর্ক করে চারজনের পাসপোর্ট তথ্যসহ চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৫০ কোটির সম্পত্তি ও বদলি নাটক: স্ট্যান্ড রিলিজ বনাম হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

​এর আগে গত ২৫ জুন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মেহেদী চৌধুরী এই প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে বিশৃঙ্খলা, ফাইল বাণিজ্য, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের সুস্পষ্ট অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন জমা দেন। অভিযোগের পর গত ৯ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

​তদন্ত শুরুর পরই ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে শাহীন-উল ইসলামকে ময়মনসিংহে এবং ফারজানা মুক্তাকে রংপুরে বদলি করা হয়। নির্ধারিত ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ২৭ জুলাই থেকে তাঁদের ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ কার্যকর হয়। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই এই বদলি আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে রিট (রিট পিটিশনের নম্বর ১০০৬৬/২০২৬) করেন শাহীন-উল ইসলাম। হাইকোর্টের বিচারক মো. হাবিবুল গণি ও বিচারক সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসাইনের বেঞ্চ রুল জারি করে বদলির আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

​অন্যদিকে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এই দম্পতিকে চট্টগ্রাম থেকে সরাতে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থ রক্ষায় তাঁদের চট্টগ্রামে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ থেকে বরিশাল ও বগুড়া: অন্য দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন: গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বোরহানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি তহবিল আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি ও বিপুল অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের তদন্ত শুরু করে। গত ৮ জুলাই তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বদলি করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন স্মারকেও একই ধরনের দুর্নীতির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মো. আনিছুর রহমান: গত ৩০ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিনে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাঁকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না