এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৩৭ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রসূতি মা ও শিশুরা সবাই সুস্থ আছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৩৭টি নরমাল প্রসব এবং সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে ৪১ জন শিশু জম্ম গ্রহন করেন ।
অন্যান্য চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপদ সন্তান প্রসবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রসূতি মায়ের ডেলিভারির হার দিন দিন বাড়ছে। প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে প্রসূতি নারীদের আস্থা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি। তিনি বলেন, গত এক বছরে ৭৭৮ শিশুর স্বাভাবিকভাবে প্রসব করানো হয়েছে। তবে ঝুঁকি থাকায় ৪১ জন শিশুর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে। এছাড়া গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও দেয়া হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা ও পরমার্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে।
মূলত স্বাভাবিক প্রসবে সরকারিভাবে প্রসূতি নারীদের উদ্বুদ্ধকরণে স্বাভাবিক নিয়মে এ সকল শিশুর জন্ম হয়েছে। খুব বেশি ঝুকিপূর্ণ না হলে সিজার না কারনোর চেষ্টা এবং ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ফলে স্বাভাবিক প্রসবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষেরা।
সেবা নিতে আসা রোগীরা কোনধরনের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেবাপ্রার্থীরা বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার কোন সুযোগ নাই। প্রতিটি পয়েন্টে আমরা লোক রেখেছি। যদি কারো কোন ধরনের অভিযোগ থাকে তাহলে সরাসরি আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবার সহযোগিতায় একটি মাতৃবান্ধব হাসপাতাল হিসেবে উঠবে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নরমাল ডেলিভারিতে ৬৯, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪, মার্চ মাসে ৪৪, এপ্রিলে ৫৫, মে মাসে ৫১, জুনে ৫৩, জুলাই ৪০, আগস্টে ৭০, সেপ্টেম্বরে ৬৭, অক্টোবরে ৭৮, নভেম্বরে ৮১ এবং ডিসেম্বরে ৮৫ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে।
বোয়ালখালী উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, নিম্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত প্রসূতিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প খরচে এই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। এতে তাদের আর্থিক সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ির বিড়ম্বনা কমেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেবাপ্রার্থীরা।
সেবা নিতে আসা প্রসূতি মায়েদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে তাদের নরমাল ডেলিভারিতে ভয় লাগলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী ও চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আশ্বাসে হাসপাতালে এসে নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এতে তাদের একদিকে যেমন খরচ বেঁচেছে অন্যদিকে প্রসবকারী মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন বলে জানান তারা।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট