ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাউজানে গভীর গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু মিসবাহ মারা গেছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 28, 2026 ইং
রাউজানে গভীর গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু মিসবাহ মারা গেছে ছবির ক্যাপশন: শিশু মিসবাহ মারা গেছে
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 

চট্টগ্রামের রাউজানে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়া তিন বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাত সোয়া ৮টার দিকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শিশুটি উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু মিসবাহ (৩) ওই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিসবাহ বুধবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার একপর্যায়ে শিশুটি ওই পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়।

শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে জানানো হলে সন্ধ্যার পর রাউজান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার সরঞ্জাম ও বিশেষ ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ক্যামেরার সাহায্যে গর্তের প্রায় ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ায় পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও এতে যুক্ত হন। উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার অংছিং মারমার উপস্থিতিতে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। গর্ত থেকে তুলে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাজান রাতে বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন (আজ)গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে থাকা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কীভাবে শিশুটি গর্তে পড়ে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গর্তটির প্রকৃত গভীরতাও এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ক্যামেরায় শিশুটিকে গর্তের প্রায় ১২ ফুট নিচে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ্যানি বড়ুয়া বলেন, তিন থেকে চার বছর আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় সেখানে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেখানে নলকূপ বসানো হয়নি। কেন কাজটি অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযান ও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ