ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘোষণার ৪৮ বছরেও হয়নি থানা, অপেক্ষায় কালারপোলবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 4, 2026 ইং
প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘোষণার ৪৮ বছরেও হয়নি থানা, অপেক্ষায় কালারপোলবাসী ছবির ক্যাপশন: প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘোষণার ৪৮ বছরেও হয়নি থানা, অপেক্ষায় কালারপোলবাসী
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শিল্প ও জনবহুল পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূর্ণাঙ্গ কালারপোল থানা। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার পর ১৯৮১ সালে থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও ৪৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্পটি। দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে থাকা প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফলে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ পশ্চিম পটিয়ার লাখো মানুষকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সেবা নিতে পটিয়া সদর থানার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পুলিশের দ্রুত সেবা পাওয়া নিয়েও রয়েছে নানা ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে কালারপোল হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এর কয়েক বছর পর ১৯৮১ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমেদ স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে থানার জন্য জমি দানপত্র গ্রহণ করে নতুন থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা থানার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রায় ৭ কানি জমি দান করেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ থানা নির্মাণের সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।

২০০২ সালের ২৯ মার্চ ‘কালারপোল থানা বাস্তবায়ন কমিটি’র তৎকালীন সভাপতি মো. ইলিয়াস মমতাজ ও সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল মল্লিকের প্রচেষ্টায় কালারপোল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিগত সরকারের আমলে কালারপোল ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রস্তাবিত থানার সীমানা নির্ধারণ ও প্রাথমিক খসড়ার কাজও সম্পন্ন করা হয়।
তবে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও জনবল বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম দীর্ঘদিন আটকে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি একনেক পর্যন্ত গড়ালেও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রস্তাবিত থানা এলাকাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও ও হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নকে প্রস্তাবিত থানার আওতাভুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে কোলাগাঁও ইউনিয়নে একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড, পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ভারী ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পটিয়া সদর থানা থেকে কালারপোল এলাকার দূরত্ব বেশি হওয়ায় কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলে পুলিশের পৌঁছাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। একই সঙ্গে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা কিংবা অন্যান্য আইনি সেবা নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পটিয়া সদরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ— দুটিই অপচয় হচ্ছে।

কালারপোল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় তরুণ দলের যুগ্ম সম্পাদক হারুন কানন বলেন, কালারপোল থানা বাস্তবায়ন আমাদের প্রাণের দাবি। পূর্ণাঙ্গ থানা না থাকায় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আমরা থানা বাস্তবায়নের জন্য অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এমপির কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেন।

এ বিষয়ে চট্রগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, প্রস্তাবিত কালারপোল থানাকে পূর্ণাঙ্গ থানাতে রুপান্তর করতে আমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা রয়েছে। কালারপোল থানা বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম পটিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে থানা বাস্তবায়নের কাজকে এগিয়ে নিবো।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা কালারপোল থানা প্রকল্পটি এবার দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পশ্চিম পটিয়ার শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য