ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুক্তিপণ চেয়ে স্ত্রীকে ফোন, পরে বন বিভাগের কটেজে মিললো ব্যবসায়ীর খোঁজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 10, 2026 ইং
মুক্তিপণ চেয়ে স্ত্রীকে ফোন, পরে বন বিভাগের কটেজে মিললো ব্যবসায়ীর খোঁজ ছবির ক্যাপশন: মুক্তিপণ চেয়ে স্ত্রীকে ফোন, পরে বন বিভাগের কটেজে মিললো ব্যবসায়ীর খোঁজ
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে অপহৃত গ্যারেজ ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (৩৬) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। 

তিনি জানান, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। পরে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহামায়া লেকের বন বিভাগের পরিত্যক্ত একটি কটেজ থেকে হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- আবুল হাশেম (৫২), শান্ত মিয়া (৩২), মো. আকরাম (৩৪), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুক (৩৪)।
পুলিশ জানায়, হেলাল উদ্দিন পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের পাশে একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। আবুল হাশেম তার পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আবুল হাশেম বিভিন্ন সময়ে হেলালের ব্যবসায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ছিল ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

এই পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে আবুল হাশেম বেশ কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবুল হাশেমসহ ৭-৮ জন ব্যক্তি একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে আসেন। পরে হেলালকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকালে অপহৃত হেলালের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে এক লাখ টাকা পাঠানোর দাবি জানানো হয়।

এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেম এবং পরে আকবরশাহর লতিফপুর এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেফতার করা হয়। আকরামের কাছ থেকে হেলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে হেলালকে মহামায়া লেক এলাকায় আটকে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহামায়া লেকের ভেতরে বন বিভাগের পরিত্যক্ত একটি কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেফতার এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধের জেরে আবুল হাশেম ও তার জামাতা আকরাম হেলালের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এজন্য তারা শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে হেলালকে অপহরণ করেন।

পাঁচলাইশ মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য