ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ছাত্রী কল্যাণে এক বছরের পথচলায়,জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2026 ইং
ছাত্রী কল্যাণে এক বছরের পথচলায়,জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা ছবির ক্যাপশন: সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক(চাকসু)-জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা
ad728
৩৫ বছর পর আবারও প্রাণবন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচিত ৭ম ক্যাবিনেটের প্রতিনিধিদের সামনে দায়িত্বটি ছিল যেমন আনন্দের, তেমনি ছিল অনভিজ্ঞতার চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া জান্নাতুল ফেরদাউস রিতার সামনে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো নারী শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কঠিন দায়িত্ব। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন, স্বাস্থ্য ও অধিকার, সমস্যার জায়গায় সরাসরি কাজের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য চান আরও নারীবান্ধব ক্যাম্পাস। হাজারো নারী শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার ভেতর ছাত্রী কল্যাণে নানা উদ্যোগের অভিজ্ঞতা তার। আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ থেকে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা থেকে আবাসন সব বিষয় নিয়ে ছাত্রী কল্যাণে এক বছরের পথচলায় জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন চট্টগ্রাম পোস্ট এর কাছে। তাঁর সাক্ষাৎকারকে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম পোস্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মুহিবুল হাসান রাফি।





রিপোর্টারঃ- কেমন আছেন?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? 

রিপোর্টারঃ- আলহামদুলিল্লাহ। আপনার পড়াশোনা ও সাংসারিক জীবন কেমন চলছে?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- চাকসুর শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততায় পড়াশোনা তেমন করতে পারছি না, শুধু ক্লাসগুলোতে উপস্থিত হচ্ছি। সংসার জীবনেও সময়টা কমই দিতে পারছি, তবুও যাচ্ছে বেশ। 

রিপোর্টারঃ- চাকসু বর্তমান কোন দায়িত্বে আছেন?কত ভোটের মাধ্যমে উক্ত পদে আদিষ্ট হয়েছেন?সামনে কি আর চাকসু নির্বাচন করা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- চাকসুতে সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। ৫৯৩৬ ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম। আপাতত দায়িত্বের ভার এতটাই যে সামনের নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা ভাবার সুযোগ হচ্ছে না। ছাত্রসংসদের মেয়াদ শেষে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি কেমন হবে তা-ও বলা যাচ্ছে না। পরের চাকসু করবো কি-না সবটাই আসলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিস্থিতির এবং পরিবারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। 

রিপোর্টারঃ- চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি কেমন? এই দায়িত্ব আপনার কাছে কতটা চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা সবসময়ই তীব্র ছিল। তবে বড় পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা কম থাকায় নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্বটি যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি ছিল চ্যালেঞ্জেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো নারী শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল, আসলে কতটা করতে পারব?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। মাত্র এক বছরে এসব সমস্যার সমাধান করা কঠিন, কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভবও। যেমন, ছাত্র হলের তুলনায় ছাত্রী হল কম হওয়ায় অনেক ছাত্রীকে একজনের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে দুজনকে থাকতে হয়। ফলে ব্যক্তিগত পরিসর ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি তৈরি হয়।

রিপোর্টারঃ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে কতটুকু কাজ করতে পেরেছেন?ইশতেহারের বাইরেও কোনো কাজ করেছেন কি-না? 

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সমস্যা সমাধান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে দায়িত্বের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছি। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিটি ছাত্রী হলে ফ্রিজ ও সেলাই মেশিন, কমনরুম সংস্কার, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন এবং পৃথক জিমনেশিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি পানীয় ও ব্যবহার্য পানির গুণগত মান পরীক্ষা, হল এলাকায় আলোর ব্যবস্থা ও সিসি ক্যামেরা বাড়ানোর দাবি, ডে-কেয়ার ফি কমানো, ক্যান্টিনে ফিমেল জোন চালু এবং ছাত্রীদের টিউশনের ব্যবস্থা করেছি। হল সংসদগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধার দাবিও জানিয়েছি।

রিপোর্টারঃ- ছাত্রীদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে হল, ক্যাম্পাস ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে আপনার পর্যবেক্ষণে কোথায় কোথায় সবচেয়ে বেশি উন্নতির প্রয়োজন বলে মনে করেন?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- ছাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে চিন্তা করলে সবার প্রথমে যেটি মাথায় আসে তা হলো আবাসন। হলের বাইরে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীরা হলে থাকা শিক্ষার্থীদের তুলনায় কম নিরাপদ। নারী শিক্ষার্থীরা যেন শতভাগ আবাসন সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

রিপোর্টারঃ- কোনো ছাত্রী হয়রানি, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা অন্য কোনো সমস্যার অভিযোগ নিয়ে আপনার কাছে এসেছে কি?যদি আসে, বিষয়টি সমাধানে আপনার ভূমিকা কী ছিল?সাধারণ ছাত্রীদের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশা সরাসরি চাকসুর কাছে পৌঁছানোর জন্য কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে চান?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- এখন পর্যন্ত অসংখ্য ছাত্রী হয়রানি, সমস্যা ও নানা সংকট নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক বা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি; প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করেছি।সাধারণ ছাত্রীদের কথা যেন কেবল অভিযোগ হয়ে না থাকে, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় পৌঁছায়—সে লক্ষ্যেই নিয়মিত চাকসুর অফিসে যাই, বিভিন্ন হলে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিই এবং হল সংসদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখি। পথ চলতে যেসব ছাত্রীর সঙ্গে দেখা হয়, তাদের কাছেও জানতে চাই কী প্রয়োজন, কোথায় সমস্যা, কী প্রত্যাশা।

রিপোর্টারঃ-কি উদ্যোগ নিলে ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে বলে আপনি মনে করেন?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হল এরিয়াতে একটি পৃথক জিমনেশিয়াম করার চেষ্টা করছি। যাতে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারে। হলের খাবারের ভালো করতে হবে। ছাত্রীরা যাতে কোন প্রকার মানসিক দুশ্চিন্তায় না ভোগে সেজন্য তাদের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার এবং ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল গঠন করতে হবে। 

রিপোর্টারঃ- আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী কিংবা বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে থাকা ছাত্রীদের জন্য বিশেষ কোনো সহায়তা বা উদ্যোগ নিয়েছেন কী?নিলে তা কতটুকু কার্যকর হয়েছে?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিউশনের ব্যবস্থা করা এবং হলে সিট পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো প্রত্যাশিত পরিসরে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্বের আওতাভুক্ত হলেও, তাদের প্রয়োজনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তাই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনের সময়ে সহজেই সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারে, সে লক্ষ্যে একটি কার্যকর উদ্যোগের পরিকল্পনা করছি।

রিপোর্টারঃ- শুধু সমস্যা সমাধান নয়, ছাত্রীদের নেতৃত্ব, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে আপনার আদৌ কোনো ভূমিকা ছিল?যদি বিস্তারিত জানাতেন।

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোনো ছাত্রী পরামর্শ বা সহযোগিতা চাইলে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এখনো প্রত্যাশিত পরিসরে কাজ করা সম্ভব হয়নি,তবে ছাত্রীদের জন্য সাইকেল প্রশিক্ষণের একটি উদ্যোগ নিয়ে ভাবছি। আর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অন্য সম্পাদকদের নেওয়া উদ্যোগগুলোতে ছাত্রীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি।

রিপোর্টারঃ- দায়িত্ব পালনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আপনার কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়েছে?কিংবা কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে? বিস্তারিত বলুন।

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- চাকসুর এক বছরের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মেয়াদে দুই প্রশাসনকে পেয়েছি। প্রথমদিকে, বিশেষ করে বাজেটসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রশাসনের প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের কার্যক্রমের গতি কিছুটা মন্থর ছিল। তবে প্রশাসন পরিবর্তনের পর বর্তমান উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি চাকসুকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ফলে প্রশাসনের সঙ্গে এখন উল্লেখযোগ্য কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। তবে হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা তুলনামূলক কম হওয়ায় মাঝে মাঝে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এই জায়গায় আরও ধারাবাহিক সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করি।

রিপোর্টারঃ- একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রীদের সমস্যা দেখার আপনার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি কি আপনার নেতৃত্বের ধরনকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- আমার কাছে যখনই কোন মেয়ে কোন সমস্যা নিয়ে আসে আমি সেভাবেই সহযোগিতা করি যেভাবে আসলে ওই পরিস্থিতিতে আমি নিজে থাকলে নিজের ব্যাপারে চেষ্টা করতাম আর এতেই সবাই আমার কাজে সন্তুষ্ট হয় আলহামদুলিল্লাহ। 

রিপোর্টারঃ- অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। সে জায়গায় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের প্রত্যাশাকে সম্মান রেখে বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝানো। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যুক্তি ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে এবং সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে, যাতে কোনো সিদ্ধান্ত বা সীমাবদ্ধতা তাদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি না করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে তখন ধৈর্য, যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হয়।

রিপোর্টারঃ- আপনার নেতৃত্বে এমন কী উদ্যোগ দেখতে চান, যা ভবিষ্যতে চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ কার্যক্রমের একটি স্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতে পানির মান নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। এর প্রভাবে চুল পড়া, ত্বকের নানা জটিলতা, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন পানিজনিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। নিরাপদ ও মানসম্মত পানির নিশ্চয়তা দিতে পারলে সেটি হবে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একইভাবে ছাত্রীদের জন্য পৃথক একটি জিমনেশিয়াম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে সেটিও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।পাশাপাশি মা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা যেসব দাবি জানিয়ে আসছি, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে তা ছাত্রীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

রিপোর্টারঃ- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রতি আমার একটাই বার্তা,স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও যৌক্তিক দাবি আদায়ে আপনারা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো সমস্যা, প্রত্যাশা কিংবা দাবি নিয়ে দ্বিধা না করে চাকসুকে জানান। আপনাদের কণ্ঠস্বরই আমাদের কাজের ভিত্তি। আপনাদের পাশে থেকে দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব,ইনশাআল্লাহ।

রিপোর্টারঃ- একজন সাধারণ ছাত্রী যদি আপনাকে প্রশ্ন করে, ❝আপনার দায়িত্বের কারণে আমাদের জীবনে আসলে কী পরিবর্তন এসেছে?❞ তাঁর প্রশ্নের কি উত্তর দিবেন।

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- ৩৫ বছর পর চাকসু পুনরায় নির্বাচন হয়েছে। আমার আগে অনুসরণ করার মতো কোনো দৃষ্টান্ত ছিল না, তাই শিক্ষার্থীদের বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনায় কাজ করেছি। ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তা বাড়াতে আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, হলে নিরাপদ পানি, নিরাপদ চলাচল, ক্যারিয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা এবং স্বস্তিদায়ক কমনরুম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার লক্ষ্য, এই উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি নিরাপদ, সহায়ক ও নারীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি ছাত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।

রিপোর্টারঃ- ব্যস্ত সময়ে সময় বের করে আপনার মূল্যবান বক্তব্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাঃ- আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট