ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: চন্দনাইশের প্রতিমা শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2026 ইং
শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: চন্দনাইশের প্রতিমা শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই ছবির ক্যাপশন: শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: চন্দনাইশের প্রতিমা শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই
ad728
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে এখন শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় প্রতিমা। বাঁশ, কাঠ আর কাদামাটি দিয়ে তৈরি এসব প্রতিমা রূপ দিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও রঙের আঁচড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মণ্ডপগুলো।
​প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা সরেজমিনে চন্দনাইশের বরকল, বরমা ও বৈলতলীসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, একনিষ্ঠ চিত্তে শিল্পীরা মাটি লাগানোর কাজ করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাদা তৈরি করছেন, আবার কেউ প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন। বেশিরভাগ মণ্ডপেই প্রতিমার কাদামাটি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপরই শুরু হবে রংতুলি ও সাজসজ্জার বর্ণিল কাজ। তবে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিমা তৈরি করে আসা ফরিদপুরের মৃৎশিল্পী লক্ষণ পাল ও বিমল পাল জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রং, তুলি ও সাজসজ্জার উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় প্রতিমার মজুরি ও চাহিদা কম থাকায় কিছুটা অসন্তোষ ও আর্থিক সংকটে রয়েছেন তারা।​চন্দনাইশ উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি বলরাম চক্রবর্তীর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় মোট ১৩৫টি মণ্ডপে (৪৩টি ঘট পূজা ও ৯২টি প্রতিমা পূজা) একযোগে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
​বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৈলতলী ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি রূপম দেব ও বর্তমান সভাপতি অসীম দেব জানান, এ ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ১২টি প্রতিমাসহ মোট ১৩টি পূজা হবে। বরকল ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি অজিত ব্যানার্জি জানান, ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ১০টি প্রতিমাসহ মোট ১১টি পূজা হবে। বরমা ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি বাবলা ধর জানান, ইউনিয়নে ৬টি ঘট ও ১৯টি প্রতিমাসহ মোট ২৫টি পূজা হবে। ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি ডা. দুলাল দেব নাথ জানান, ইউনিয়নে ১টি প্রতিমা পূজা হবে। সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি মাস্টার সুকুমল কান্তি পাল জানান, ইউনিয়নে ৫টি ঘট ও ২টি প্রতিমাসহ মোট ৮টি পূজা হবে। জোয়ারা ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি সুনিল কান্তি দেব জানান, ইউনিয়নে ২টি ঘট ও ৪টি প্রতিমাসহ মোট ৬টি পূজা হবে।
​কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক সঞ্জয় দে জানান, ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ৩টি প্রতিমাসহ মোট ৪টি পূজা হবে। হাসিমপুর ইউনিয়ন পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল ঘোষ জানান, ইউনিয়নে ৪টি ঘট ও ৯টি প্রতিমাসহ মোট ১৩টি পূজা হবে। চন্দনাইশ উপজেলা পূজা পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী টিটু জানান, চন্দনাইশ পৌরসভায় ৬টি ঘট ও ১৭টি প্রতিমাসহ মোট ২৩টি পূজা হবে। চন্দনাইশ উপজেলা পূজা পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাস্টার রূপক ঘোষ জানান, দোহাজারী পৌরসভায় ১৬টি ঘট ও ১৬টি প্রতিমাসহ মোট ৩২টি পূজা হবে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষ শুরু হবে। এরপর আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ উৎসব।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল