মোহাম্মদ ওমর ফারুক চন্দনাইশ (চট্রগ্ৰাম) প্রতিনিধি
ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক চেতনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো চট্টগ্রামের চন্দনাইশে। উৎসব ও আনন্দের বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক মানবিক বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে এ উপহার সামগ্রী তুলে দেয় ‘গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দির পূজা উদযাপন পরিষদ’। গত ১৭ অক্টোবর শনিবারে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ আনন্দময় মেলবন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. মিলন ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাবু অরূপ রতন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানটির পুরো সঞ্চালনায় ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মন্দির স্থায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ভব শংকর ধর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রেজাউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিআইও-১ মো. আনোয়ার হোসেন এবং চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার।
এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সর্বজনীন রূপ নেয়। অতিথিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুবেল দেবসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বস্ত্র বিতরণের এ আয়োজন কেবল বস্তুগত সহায়তা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। উপস্থিত বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ সমাজের সর্বস্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অটুট রাখতে এমন মানবিক উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট