ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরে ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ ভেঙে দেওয়া হয়েছে: জেলা প্রশাসক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 1, 2026 ইং
জঙ্গল সলিমপুরে ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ ভেঙে দেওয়া হয়েছে: জেলা প্রশাসক ছবির ক্যাপশন: জেলা প্রশাসক
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, প্রায় দেড় লাখ মানুষকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অভিযান-পরবর্তী সময়ে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এলাকাটিতে পাহাড় কাটা, পরিবেশ ধ্বংস এবং অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও বেচাকেনাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এতে এলাকাটি কার্যত সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

তিনি জানান, ২০২১-২২ সালে অভিযান চালানো হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। এরপর সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান শুরু হয়।
পরবর্তী সময় ৯ মার্চ র‍্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের দাবি, এ অভিযানে কোনো প্রাণহানি ছাড়াই সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

অভিযানের পর এলাকায় একটি পুলিশ ও একটি র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যা ৯ মার্চ থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সুবিধার অভাবে ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখেন, দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মনোবল বাড়াতে মিষ্টি ও তরমুজ বিতরণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলীনগর এলাকার সড়কের অবস্থা খারাপ। এরইমধ্যে এলজিইডির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। দুটি ডিপ টিউবওয়েলের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম বিবেচনায় অস্থায়ী তাঁবুর পরিবর্তে টিনের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের