ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে বলি খেলার মাঠে জনসমুদ্র, ফিরে এলো গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্পন্দন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 5, 2026 ইং
মিরসরাইয়ে বলি খেলার মাঠে জনসমুদ্র, ফিরে এলো গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্পন্দন ছবির ক্যাপশন: বলি খেলার মাঠে জনসমুদ্র
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
সাফায়েত মেহেদী মিরসরাই, (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উপকূলীয় জনপদে আবারও প্রাণ ফিরে পেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা। যে খেলা একসময় ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সময়ের স্রোতে তা হারিয়ে যেতে বসেছিল। সেই হারানো ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতেই টেকেরহাটের ফসলি মাঠে জড়ো হলেন হাজারো মানুষ। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পুরাতন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ মাঠ যেন রূপ নেয় এক বিশাল লোকউৎসবে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ ও আশপাশ এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার চোখ তখন মাঠের দিকে যেখানে শুরু হয়েছে শক্তি, সাহস আর কৌশলের লড়াই। শতাধিক বলির অংশগ্রহণে এবারের আসর পায় ভিন্ন মাত্রা। মিরসরাই ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অভিজ্ঞ প্রতিযোগীরা মাঠে নামেন। তাদের প্রতিটি কৌশলী চাল শক্তির প্রয়োগ আর দৃঢ় মনোবল মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় উত্তেজনা। খেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলি খেলার টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ‘বাঘা শরীফ’। তার উপস্থিতি মাঠে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে। এবারের আয়োজনকে আলাদা করেছে পুরস্কারের বিশালতা। ১০১টি আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয় অংশগ্রহণকারীদের জন্য। ফ্রিজ, টিভি, বাইসাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলাসহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন বিজয়ীরা। প্রতিযোগীদের কণ্ঠেও ছিল আনন্দের ছাপ। কুমিল্লা থেকে আসা শাহজালাল বলি জানান, ’দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই খেলায় যুক্ত। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার শিষ্যরাও অংশ নিচ্ছেন। এবারের আসরে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিততে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা বাদশা বলি বলেন, দেশে ফিরে আবার মাঠে নামার সুযোগ তাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। অন্যদিকে প্রবীণ বলি জামাল উদ্দিনের চোখে ভেসে ওঠে পুরোনো দিনের স্মৃতি যখন এই খেলাই ছিল গ্রামের প্রধান আকর্ষণ। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সদস্য সচিব মীর হোসেন রাহাত জানান, ’এটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি। তারা বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’ খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, এমন আয়োজন এখন খুব কম দেখা যায়। মাঠে এসে মনে হচ্ছে পুরোনো দিনের সেই গ্রামীণ পরিবেশ আবার ফিরে এসেছে। এত মানুষের উপস্থিতি সত্যিই চোখে পড়ার মতো। আরেক দর্শনার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ’বলিখেলা আমাদের ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। প্রতিযোগীদের শক্তি আর কৌশলের লড়াই খুবই উপভোগ করেছি। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে ভালো লাগবে।’ এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাসুকুল আলম সোহান, ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু নোমান, সাবেক সদস্য সচিব মনজুরুল হক মঞ্জু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ন আহবায়ক সাব্বির হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল সহ নেতৃবৃন্দ। 

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন