ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিএসসি সচিব শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 11, 2026 ইং
বিএসসি সচিব শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: বিএসসি সচিব শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) সচিব ও সরকারের উপসচিব আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভূমি জালিয়াতি ও অনিয়মের বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। বিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগপত্রে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) থাকাকালে খুলনার কেডিএ এভিনিউ এলাকায় কর্পোরেশনের ১১ দশমিক ৭৩ কাঠা জমি ‘হোস্টন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে নামমাত্র মূল্যে লিজ দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেন। পরে বিএসসি বোর্ড ওই চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একইভাবে খুলনার বয়রা এলাকায় প্রায় ৪০ কাঠা জমি লিজ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) থাকাকালে বিভিন্ন কাজ পিপিআর অনুযায়ী সম্পন্ন না করে নিজের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাতেন এবং বিল ছাড়ের সময় মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করতেন। এমনকি কর্মচারীদের পোশাক সরবরাহের কাজেও তার ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাকে বিএসসি থেকে বদলি করে ঢাকা ওয়াসায় পাঠানো হলেও সেখানে ঠিকাদারদের বিল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তাকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আবার বিএসসিতে সচিব হিসেবে ফিরে আসেন।

বিএসসিতে পুনরায় যোগদানের পর সরকারি সফরকে ‘আয়ের উৎসে’ পরিণত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় ঢাকা ও খুলনা সফরের নামে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ভ্রমণ বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নামে নিয়মিত সফর করলেও চট্টগ্রামের মামলাগুলো তিনি গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ব্যারিস্টার কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হজ, চিকিৎসা কিংবা বিদেশ সফরের জিও জারির ক্ষেত্রেও ঘুষ দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে নিজ কক্ষে মাদক সেবন করেন এবং তার অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেনামে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে হয়রানি করেন। দুর্নীতির টাকায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “অভিযোগগুলো পুরোনো। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা