ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে ছবির ক্যাপশন: শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সকলকেই কাজ করতে হবে। সরকার শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে অনেক কিছু করছে, করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থা এতটাই জটিল যে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পরও এর কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মামলা। ৬৫ হাজার ৫০০ প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে ৫০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব পদ কি ২০২৬ সালে হয়েছে? নাকি এত শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন? প্রধান শিক্ষক সংকট এবং পরিকল্পনাহীনভাবে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান বিশেষ অতিথি ছিলেন।

২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির মামলার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মামলাটা খুব সিম্পল, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে হেডমাস্টার বানানো হবে। ২৮৭ জন আত্তীকরণকৃত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বললেন, আমাদেরকেও একই অভিজ্ঞতায় নিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ২৮৭ জনকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে আপনি ৩২ হাজার ৫০০ স্কুলকে খালি রাখলেন। ২৮৭ জনকে যদি আপনি মনে করতেন মানহীন, পিটিআই আছে, সেখানে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে দেন। আপনি আপডেট করতে পারতেন না? চ্যালেঞ্জ করলেন, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া আর হলো না।

বিভিন্ন কলেজে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, যেকোনো স্কুল–কলেজ থেকে এসে বলে অনার্স দেন। সংসদ সদস্যরা এসে বলে অনার্স দেন। সাবজেক্ট কী? সাইকোলজি, ফিলোসফি, হিস্ট্রি, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচারস। এই চার–পাঁচটা বিষয়ের বাইরে কোনো বিষয় তারা খুলবে না। তিনি বলেন, আমার এখন ৫৬টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তারপরও আমাকে এই বিষয়গুলো কলেজে কলেজে কেন খুলতে হবে?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় অপচয় না হয়। ইতিমধ্যে আমরা ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারে। এরপর থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়াও সমন্বয় করব। শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু আমাদের কাছে আসেন এই ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে, জেলা লেভেলে ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে এবং অনার্স কলেজ দিতে হবে এবং কলেজগুলোকে সরকারি বানাতে হবে। কিন্তু একজনও এসে বলেন না, আমার এলাকায় প্রাথমিক স্কুলগুলো সুন্দর নেই। প্রাথমিক স্কুলগুলো সরকারি করেন, এটা বলছেন না। বাংলাদেশে বর্তমানে স্কুল–কলেজ তৈরি করা অনেকের কাছেই ব্যবসা বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতেই সরকার মাসে ন্যূনতম চার লাখ টাকা দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি স্কুলে মাসে চার লাখ টাকা করে বছরে ৪৮ লাখ দিচ্ছে সরকার। তারপরও একটি ছাত্র পরীক্ষা দেবে না এবং একশ শতাংশ ফেল করবে, এটা কি হতে পারে? সরকারের টাকার জবাবদিহিতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েরা পড়ছে না, তো সরকার কেন জরিমানা দেবে?

শিক্ষামন্ত্রী স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ, ৯ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্ন প্রণয়ন এবং পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের আন্তরিক হওয়ার কথাও বলেন। বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আগামী প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের মধ্যে স্বতঃপ্রণোদনা থাকতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের সম্মান অর্জন করে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, এখন পরীক্ষায় নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। অনেকে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে নকল করার চেষ্টা করে। তাই এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিবদের সতর্ক থাকতে হবে এবং স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। সারা দেশের মতো পার্বত্য অঞ্চলেও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করতে হবে।

সভায় চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব