ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 12, 2026 ইং
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি অনন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, সংকীর্ণতা বা বিভাজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে শতভাগ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অতীতের স্মৃতি চারণ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও সুপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নৃসংশতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও নানা রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এই বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী যেভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার হতে হবে।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়েই সেনাবাহিনীর মধ্যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী যে মানসিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, তা আজও আমাদের গর্বের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, একটি ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বিশ্বের কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না।

এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলেই এই অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল এবং এই ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান করা হবে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতের আমূল সংস্কার এবং জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এটি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে রূপান্তর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্র বাহিনী তাদের মহান ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দেশের মান রক্ষা করবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন