আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তারের বান্ডেল চুরির অভিযোগে মো. হৃদয় (১৯) নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার পাঁচ সিকদার পুলের গোড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন হৃদয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম মো. ইদ্রিছ। তিনি বৈরাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
হৃদয় বৈরাগ ইউনিয়নের ওয়াপঞ্চক-দেয়াং বাজার এলাকার বাসিন্দা ওসমান গণির ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি তিনি গুয়াপঞ্চক এলাকায় মেরিন একাডেমিতে অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করেন।
হৃদয়ের অভিযোগ, মেরিন একাডেমি থেকে এক বান্ডেল ক্যাবল বা তার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাঁকে দায়ী করেন ইউপি সদস্য ইদ্রিছ। শনিবার বৈরাগ পানি ট্যাংকি এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে ধরে গুয়াপঞ্চক পাঁচ সিকদার পুলের গোড়ায় একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। চুরির কথা স্বীকার করানোর জন্য গলা টিপে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান হৃদয়। এরপর তাঁকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
হৃদয়ের বাবা ওসমান গণি বলেন, আমার ছেলেকে একটি গোপন জায়গায় নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এতে সে গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিছ তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, হৃদয় তাঁর অধীনে কাজ করতেন। তারের কয়েল চুরির সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে হাতেনাতে ধরেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হৃদয়কে তিনি মারধর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে করা মারধরের অভিযোগ মিথ্যা।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট