ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ই-জিপি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেই টেন্ডার মূল্যায়ন: সিডিএ কর্মকর্তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 5, 2026 ইং
ই-জিপি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেই টেন্ডার মূল্যায়ন: সিডিএ কর্মকর্তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছবির ক্যাপশন: সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আবু ইসা আনসারী
ad728

নিউজ ডেস্ক |চট্টগ্রাম 

​চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মাস্টার প্ল্যান ইউনিটের অধীনে 'মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান (২০২০–২০৪১)' প্রণয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও সিডিএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে 'দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশন' নামের একটি চতুর্থ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার দাবি করেছে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সিডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, ই-জিপি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই টেন্ডার মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

​জানা গেছে, এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে 'চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান প্রজেক্ট’ প্রস্তুতের অংশ হিসেবে ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সম্মেলন, টাউন ম্যানেজমেন্ট কমিটি (টিএমসি) সভা, অংশগ্রহণমূলক দ্রুত মূল্যায়ন (পিআরএ), গণশুনানি ও জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টেন্ডার (নং-২৫.৪৭.১৫০০.০৭১.৭৬.০৭৬.২৫) আহ্বান করা হয়। ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) প্রক্রিয়ায় সরকারি ই-জিপি সিস্টেমে উক্ত কাজের অনুকূলে ৮টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত ৬টি প্রতিষ্ঠান তা জমা দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে— আর্শিনগর মিডিয়া, রুবরিক কমিউনিকেশন, এড অন কমিউনিকেশন লিমিটেড, দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশন, বর্ণমালা কমিউনিকেশন এবং পাওয়ার লাইন কম্পিউটার।

​অভিযোগকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সব শর্ত ও নিয়মাবলি অনুসরণ করেই ই-জিপিতে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্যের ক্রমানুসারে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আর্শিনগর মিডিয়া প্রথম, রুবরিক কমিউনিকেশন দ্বিতীয় এবং এড অন কমিউনিকেশন লিমিটেড তৃতীয় স্থান অর্জন করে। কিন্তু এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে চতুর্থ নম্বরে থাকা দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশনকে কার্যাদেশ বা নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে করা হয়েছে দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা।

​দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা রুবরিক কমিউনিকেশনের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর আহমেদ রাজ জানান, ই-জিপি ব্যবস্থায় সিডিএর সকল শর্ত মেনে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৩ টাকায় তারা বিট করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও চতুর্থ বিটকারী দ্যা সার্কেল কমিউনিকেশনকে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর নোয়া প্রদান করা হয় (টেন্ডার আইডি: ১২৪৩৭১২)।

এ বিষয়ে জানতে দৈনিক চট্টগ্রাম পোস্ট থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,  নোয়া প্রদানকারী সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আবু ইসা আনসারী টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন
বিষয়টির আইনি ও কারিগরি দিক স্পষ্ট করে তিনি জানান, সরকারি ই-জিপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অটোমেটেড ও শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই টেন্ডার মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।

​তিনি আরও জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী শুধু কম দর হাঁকালেই কাজ পাওয়া যায় না; সবার আগে দেখতে হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা। কোনো প্রতিষ্ঠান কারিগরি শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাদের আর্থিক প্রস্তাব গ্রহণের কোনো সুযোগ থাকে না। কারিগরিভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকেই যথাযথ নিয়ম মেনে কাজটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

​সিডিএর এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, একটি অযোগ্য পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র ও নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অপপ্রচারে কান না দিয়ে সরকারি নীতিমালা ও ই-জিপি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ