নিউজ ডেস্ক | চট্টগ্রাম
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে আগামী ১১ আগস্ট সকাল থেকে আবারও শুরু হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ ও অবতরণ কার্যক্রম। তিন মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রাঙামাটির মৎস্য অবতরণ ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলেপাড়ায় এখন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
মাছ ধরার প্রস্তুতি হিসেবে জেলেরা নতুন জাল তৈরি, পুরোনো ছেঁড়া জাল সেলাই এবং নৌকা ও বোট মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ড্রাম ও বরফসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখছেন। প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদে মাছের প্রজনন ও পোনা সংরক্ষণে গত ২৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। প্রাথমিক মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত থাকলেও মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্তে তা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়।
হ্রদে এবার পর্যাপ্ত পানি থাকায় মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির পরিবেশ বেশ অনুকূলে ছিল বলে জানান স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা। ফলে মৌসুমের শুরুতেই রুই, কাতলা ও চাপিলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় আকারের মাছ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের আয়-রোজগার বন্ধ থাকার যে কষ্ট, মাছ বিক্রি শুরু হলে তা ঘুচে যাবে বলে বিশ্বাস জেলে শিমুল বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী জাফর ইকবালের। তবে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইছহাকের মতে, জেলেদের মতো মৎস্য খাতের নিবন্ধিত কর্মচারীরাও এই দীর্ঘ সময়ে কষ্টে থাকেন, তাই তাদের প্রতি সরকারি সহায়তার নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্র এবং উপকেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যে অবতরণ কার্যক্রমের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএফডিসির রাঙামাটি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, ১১ আগস্ট সকাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যান্ডিং কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছিল, যা থেকে সরকার ১৯ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট