ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চারগুণ বন্দীর চাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 23, 2026 ইং
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চারগুণ বন্দীর চাপ ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চারগুণ বন্দীর চাপ
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
প্রায় ২০০ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে উপচে পড়া বন্দীর চাপে নিজেই গভীর সংকটের মুখোমুখি। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুণের চেয়ে বেশি বন্দী নিয়ে কারাভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে এক অস্বাভাবিক দমবন্ধ পরিস্থিতি। এই অতিরিক্ত মানুষের চাপে কারাগারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, সাধারণ কয়েদিদের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তিল ধারণের জায়গা নেই ওয়ার্ডগুলোতে।

 

১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কাগজে কলমে ধারণক্ষমতা ১৮৫৩ জনের। কিন্তু বর্তমানে এখানে নিয়মিতভাবে প্রায় সাত হাজারে চেয়ে বেশি বন্দী বসবাস করছে। কারাবিধি বা জেল কোড অনুসারে প্রতিটি বন্দীর জন্য ৩৬ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ থাকার নিয়ম থাকলেও অতিরিক্ত বন্দীর জটে তা কেবলই খাতাকলমে সীমাবদ্ধ। বন্দীদের থাকতে হয় গাদাগাদি করে। একজনের বরাদ্দের জায়গায় থাকছে তিনজন বন্দী। এ অবস্থায় নতুন করে কারাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগার সূত্রে জানা যায়, একজন বন্দীর জন্য ৩৬ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ থাকার কথা। কারাগার সাধারণত জনসাধারণ চলাচলের স্থান থেকে ১৮ ফুট দূরে হবার নিয়ম রয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ।

 

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. ছগির মিয়া জানান, ১৮৫৩ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম কারাগারে গতকাল মঙ্গলবার বন্দীর সংখ্যা ছিল ৬৯৮৩ জন। এখানে জেলা ও মেট্রো এলাকার বন্দী ছাড়াও রয়েছে মাদকসেবী, মাদক পাচারকারী, জলদস্যু, রোহিঙ্গা অপরাধী। এছাড়া চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার থেকে এখানে বন্দীদের পাঠানো হয়। শুধুমাত্র মেট্রো এলাকার বন্দী থাকে প্রায় চার হাজারেরও বেশি। নানা অপরাধের বন্দী এক জায়গায় থাকার কারণে বন্দীদের যে মৌলিক অধিকার তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন কারাগার স্থাপন করা খুবই জরুরি।

 

নতুন কারাগারের প্রস্তাব : মহানগর ও জেলা বিচার ব্যবস্থা পৃথক হওয়ার পরও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মহানগর, জেলা ও মাদক মামলার বন্দীদের একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের বন্দীকে একসঙ্গে রাখায় তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার পাশাপাশি অপরাধের কৌশল একে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে নতুন কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

 

মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারে অভিযুক্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য নগরীর কাছাকাছি ৫০ থেকে ৭০ একর জমিতে ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি মাদক মামলার বন্দীদের জন্য বিশেষায়িত কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। শহরের কাছাকাছি এই বিশেষায়িত কারাগার স্থাপন করা গেলে চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুনর্বাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সেবা সহজে পাওয়া যাবে। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার বন্দীদের জন্য পৃথক ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-৩’ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরীর অপরাধীরা সাধারণত অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জাল টাকা তৈরি, দালালি ও চোরাকারবারের মতো তুলনামূলক জটিল ও সংঘবদ্ধ অপরাধে যুক্ত থাকে। বর্তমানে মহানগর এলাকার বন্দীর সংখ্যা প্রায় চার হাজারের বেশি, যাদের বেশিরভাগই হাজতি। নগর দ্রুত সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে  সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অন্তত ২০০ একর সরকারি খাস জমিতে এই বিশেষায়িত কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. ছগির মিয়া বলেন, মাদক মামলার বন্দীদের জন্য একটি আলাদা জোন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মহানগর এলাকার বন্দীদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো কারাগারটিতে চট্টগ্রাম জেলার বন্দীদের রাখা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের বন্দীরা আলাদা থাকবে এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ বা পরামর্শের সুযোগ কমবে। ফলে অপরাধও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

মহানগরের বন্দিদের স্থানান্তরের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে নতুন কারাগার নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। রোহিঙ্গা, মাদকসংশ্লিষ্ট এবং অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত বন্দীদের পৃথকভাবে রাখার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরবর্তী করণীয় জানানো হবে।

 

১৮৮৫ সালে চট্টগ্রাম শহরের লালদীঘি পাড় এলাকায় ১৪ দশমিক ৪০ একর জায়গায় চট্টগ্রাম জেলা কারাগার স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কারাবন্দীদের রাখার জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রতিটিতে বন্দী রাখার ধারণক্ষমতা ৩০০ জনের। পরবর্তীতে বন্দীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাংগু, কর্ণফুলী ও হালদা নামে আরো তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এগুলোর প্রতিটিতে বন্দী রাখার ধারণক্ষমতা ২৪০ জন করে। সেই হিসাবে ৬টি বন্দীশালায় ধারণক্ষমতা এক হাজার ৮৫৩ জনের। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বন্দীর চাপ এতো বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি বন্দী রাখতে হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা