ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে পশুর বাজারে চাহিদা বাড়ছে মরুর দুম্বার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
চট্টগ্রামে পশুর বাজারে চাহিদা বাড়ছে মরুর দুম্বার ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে পশুর বাজারে চাহিদা বাড়ছে মরুর দুম্বার
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাড়ছে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বার চাহিদা। গরু ও ছাগলের পাশাপাশি এবার উপজেলাটিতে শৌখিন ক্রেতাদের নজর কেড়েছে বিদেশি জাতের দুম্বা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বাড়বকুণ্ড ও ভাটিয়ারী এলাকার কয়েকটি খামারে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার পছন্দের দুম্বার জন্য আগাম বুকিংও দিচ্ছেন।
সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকার রূপালী এগ্রো লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বড় আকৃতির দুম্বা খামারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখতে অনেকটা ভেড়ার মতো হলেও বিশাল দেহ ও চর্বিযুক্ত লেজের কারণে সহজেই আলাদা করা যায় প্রাণীগুলোকে। খামারের একটি দুম্বার ওজন প্রায় দুই মণ। সেটির দাম হাঁকা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রতিদিনই দুম্বাটি দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ ও শৌখিন ক্রেতারা।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে দুটি পুরুষ ও চারটি নারী টার্কি জাতের দুম্বা কেনা হয়। প্রায় নয় লাখ টাকায় কেনা সেই ছয়টি দুম্বা বর্তমানে প্রজননের মাধ্যমে বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়টিতে। ইতোমধ্যে দুটি মা দুম্বা তিনটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে।
রূপালী এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, আমরা মূলত গরুর খামারি। খামারে প্রায় ৩৫০টি গরু রয়েছে। গরুর পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে দুম্বা পালন শুরু করি। শুরুতে খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও এখন দুম্বাগুলো স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ভাটিয়ারী জলিল গেট এলাকার ইউনিক গোট ফার্মেও সফলভাবে চলছে দুম্বা পালন ও প্রজনন। খামারটির মালিক আদনান চৌধুরী জানান, ২০২১ সালে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে নয়টি দুম্বা কিনে এনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে খামারটিতে দুম্বা প্রজনন ও বিক্রি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিগত এক বছরে প্রায় ৫০টি দুম্বা বিক্রি করেছি। শুধু গত এক মাসেই বিক্রি হয়েছে ২৫টি। বর্তমানে বিক্রির জন্য কোনো দুম্বা নেই। ৪৩টি দুম্বা প্রজননের জন্য রাখা হয়েছে, যেগুলো আগামী বছরের কোরবানির ঈদে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।’
খামার সূত্রে জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের দুম্বা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকৃতির দুই মণ ওজনের দুম্বার দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি। এমনকি তিন মাস বয়সী একটি দুম্বাও এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানান খামারিরা।

খামার সংশ্লিষ্টদের দাবি, ছাগল ও ভেড়ার তুলনায় দুম্বা পালনে লাভ কয়েকগুণ বেশি। টার্কি, আওয়াজি ও পারসিয়ান জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে এসব খামারে। প্রতিটি দুম্বার পেছনে মাসে প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হলেও রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন।

ইউনিক গোট ফার্মের মালিক আদনান চৌধুরী বলেন, অনেকে দুম্বাকে ভেড়া মনে করে একই দামে কিনতে চান। কিন্তু দুম্বা সম্পূর্ণ আলাদা প্রাণী। এর মাংস অনেক সুস্বাদু এবং শৌখিন ক্রেতাদের কাছে এর আলাদা কদর রয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া বলেন, মরুর প্রাণী হলেও দুম্বা এখন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। ঘাসের পাশাপাশি দানাদার খাদ্যও খায়। ফলে আলাদা করে অতিরিক্ত খাদ্য ব্যয় হয় না। ছাগল-ভেড়ার তুলনায় রোগবালাইও কম।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ও যোগান কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদার তুলনায় ৩ হাজার ২৩০টি পশু বেশি রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু