মোহাম্মদ ওমর ফারুক চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
ঘরের ওপর টিনের এক চালা বাঁশ দিয়ে চাপা দেওয়া। চার পাশে বাঁশের বেড়া ও পলিথিনে মোড়ানো। এই ঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন দিনমজুর সুকুমার দেব । মাথা গোঁজার ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার ছোট এই ঘরটি। জরাজীর্ণ, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে তারা বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে। বৃষ্টি পড়লে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। সুকুমার দেব দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ৫নং বরমা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াড বাইনজুরী গ্রামের মাহজন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সাধন দেব এর ছেলে। সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ঘরটি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অসহায় পরিবারটির পাশে কেউই নেই। ছোট্ট একটি ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল। এসব নিয়েই তাদের সংসার। সামান্য অর্থ দিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে চার সদস্যের সংসার। সুকুমার বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে সংসার চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। যদি সরকারিভাবে একটা ঘর করে দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
সুকুমারের স্ত্রী সপ্না বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চলছে। ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর বাঁধতে পারছি না। কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কিছুই পাবনা।
তাদের ঘরটি জরাজীর্ণ হওয়াই বর্তমানে
তারা থাকেন অন্যের জমিতে জরার্জর্ণ একটি ঘরে। অভাবের সংসারে এখন দিশেহারা সুকুমার-স্বপ্না দম্পতি, সামান্য কিছু জায়গা থাকলে ও নতুন ঘর তুলবেন সেই সামর্থ্য নেই পরিবারটির। এ বিষয়ে সপ্না দেব জানান, আমার বিয়ের পরেই দরিদ্র পরিবারে হাতাশা লেগে রয়েছে। তিনি আরো বলেন আমি যাতে একটা ঘর নির্মাণ করতে পারিমত দেশ ও প্রভাসে সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করি। এবং আমার অসহায় পরিবারের প্রতি সকলের সুদৃষ্টি কামনা করি।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মধুসুধন দত্ত এর সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুকুমার কে বিজিডি ও টিসিবি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তবে সুকুমার দেব গরিব মানুষ তার জন্য তার বসতবিটাই একটি ঘর খুবই প্রয়োজন।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট