নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) মেশিন যুক্ত হওয়ায় স্নায়ু ও মাংসপেশির বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয়ের সেবা পাবেন রোগীরা। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, স্নায়ুতে দুর্বলতা, সায়াটিকা, মাংসপেশির দুর্বলতা ও বিভিন্ন ধরনের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথিসহ নানা সমস্যার কারণ শনাক্তে মেশিনটি ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ইএমজি মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান। ব্যবসায়ী মো. ওহিদুল আলম নিউরোলজি বিভাগে মেশিনটি দান করেন।
নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক ডা. রিফাত কামাল। সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাগর দেব তপু অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চমেকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনিসুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে ইএমজি মেশিনের দাতা মো. ওহিদুল আলমের ছেলে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মনিরুল আলম এবং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এস এম আবু তৈয়ব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম, নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল আলম, শিশু নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আলাউদ্দিনসহ নিউরোলজি বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ইএমজি মেশিন যুক্ত হওয়ায় রোগীরা এর সুফল পাবেন। বিশেষ করে স্নায়বিক বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে মেশিনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতেও এটি সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বিভাগে সামনে নিউরো ইন্টারভেনশনের কাজ শুরু করব। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ জনকে আইভি থ্রম্বোলাইসিস দেওয়া হয়েছে। এই সেবা আমরা ২৪ ঘণ্টা দিচ্ছি। স্ট্রোক হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। তাই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।
নিউরোলজি বিভাগের প্রধান আরও বলেন, বর্তমানে বিভাগের অনেক রোগীকে বারান্দায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসকদের হাঁটু গেড়ে বসে চিকিৎসা দিতে হয়। বারান্দা বা গেটের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। সেখানে ফ্যান ও অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, পাশাপাশি নিরাপত্তার সমস্যাও রয়েছে। তারপরও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট