নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
অর্নামেন্টাল ক্যাবেজ, মেক্সিক্যান পিটনিয়া, ম্যালাপুটিয়াম, ড্রপ স্নো বল, ভিনকা— নামগুলো অনেকের কাছে অপরিচিত, পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগবে; এসব কীসের নাম? কেউ কেউ হয়তো গুগল করে জানতে চাইবেন। এমন অসংখ্য নামের সঙ্গে পরিচয় হতে আপনাকে আসতে হবে চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে। যেখানে রয়েছে ১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি রং-বেরঙের ফুল।
চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ফুল উৎসবে দেখা মিলছে এসব ফুলের। যেখানে মানুষের ভিড় আর শহরের ক্লান্ত জীবনে এক টুকরো আনন্দের বিরতি। চট্টগ্রামের বাইরের লোকজনও সময় কাটাতে আসছেন লক্ষাধিক ফুলের ডিসি পার্কে। জলাধারের চারপাশে লাল-সাদা-হলুদসহ হরেক রঙের ফুল দোল খাচ্ছে পৌষের বাতাসে। সেসব ফুলের রং আর গন্ধে মাতোয়ারা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের ডিসি পার্ক। এবারের ফুল উৎসবে জিপলাইন, কায়াকিং বিশেষ নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুল উৎসবে সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যামালতী, লাল রঙ্গন, বাগান বিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, টগর, দোপাটি, দোলনচাঁপা, বাসন্তী, রজনিগন্ধা, হাজারি গোলাপ ও গাঁদাসহ অসংখ্য দেশি ফুলের উপস্থিতি ডিসি পার্কে।
বিদেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ক্যামেলিয়া, অ্যারোমেটিক জুঁই, রেড লিলি, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, টরেনিয়া, ইমপেসিয়েন্স, ভ্যারিগেটেড জবা, লিপস্টিক প্ল্যান্ট, ভারবিনা বাই কালার, গোল্ডেন শাওয়ার, রেইন লিলি, থাই একজোড়া, এস্টার, হলিহক, ব্লু ডেইজ, ফ্লক্স ও পমপম ডালিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতি।
গত শুক্রবার ফুল উৎসব শুরুর দিন থেকেই ডিসি পার্কের চেহারা বদলে যায়। প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে ভেতরের খোলা মাঠ পর্যন্ত সাজানো হয় নানা জাতের ফুলে। গাঁদা, গোলাপ, পেটুনিয়া, ডালিয়া, জিনিয়া—দেশি ও বিদেশি ফুলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় নান্দনিক নকশা। কোথাও ফুল দিয়ে লেখা, কোথাও রঙিন ফুলের ভাস্কর্য। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা যোগ হলে পুরো পার্ক যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি এক রঙিন দৃশ্য।
ফুল উৎসবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পরিবার আর শিশুদের উপস্থিতি। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে এসেছেন প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে।
চট্টগ্রাম নগরী থেকে ফুল উৎসবে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, একঘেয়ে শহুরে জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্ত হতে পরিবার নিয়ে ডিসি পার্কে আসা। এখানে অনেক ফুল আছে যা আগে কখনো দেখা হয়নি। ফুল ও এখানকার অ্যাক্টিভিটিগুলো বাচ্চারা ভালোই এনজয় করছে। বিশেষ করে কায়াকিং। অল্প খরচ ও সময়ের মধ্যে বিনোদনের জন্য ডিসি পার্ক চট্টগ্রামবাসীর জন্য বেস্ট অপশন।
চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে পড়া বাহাদুর শাহ ডিসি পার্কে ঘুরতে এসেছেন বন্ধুদের নিয়ে। তিনি বলেন, একসঙ্গে এতগুলো ফুল আর কোথাও দেখিনি। এখানে মনে রাখার মতো সময় কাটলো।
পার্কের জিপলাইনে চড়া সাদ্দাম হোসেন বলেন, এখানকার পরিবেশ দারুণ। পুরো ডিসি পার্কের ফুলগুলো লাইন থেকে একপলকে দেখা যায়। এবং নিচে বিশাল পুকুর হওয়ায় ভয় কম হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ভালোই বলা যায়।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট