ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026 ইং
নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান ছবির ক্যাপশন: নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
সরকারি প্রতিষ্ঠানই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) নিয়মিত পৌরকর (গৃহকর ও অন্যান্য রেইট) পরিশোধ করছে না। বর্তমানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌরকর বাবদ চসিক ৪৬২ কোটি টাকার বেশি পাবে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর ও রেলওয়ের কাছে পাবে ৩৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

চসিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, চসিকের রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত পৌরকর। সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ না করলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। আবার রাজস্ব আদায় কম হলে নিজস্ব অর্থে উন্নয়ন কাজ করতে বেগ পেতে হয় সংস্থাটিকে। তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান পৌরকর পরিশোধ না করলে সাধারণ জনগণ গৃহকর পরিাশোধে নিরুৎসাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায়ে মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে চসিক। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে মন্ত্রণালয়ের অধীন সেই সব মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবের কাছে পৃথক দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হয়েছে। মোট ২৫টি মন্ত্রণালয়ে এ পত্র দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর দেয়া চিঠিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, বন্দরের কাছে পাওনা আদায়ে বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। বাকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। আসলে পৌরকর পরিশোধের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজেট দেয় মন্ত্রণালয়। বাজেট না পেলে তারা দিতে পারে না। যেমন একটি প্রতিষ্ঠানের পৌরকর ধার্য্য হয়েছে ১০ লাখ টাকা। তারা হয়তো ৪ লাখ পরিশোধ করেছে। কিন্তু বাজেট না থাকায় বাকি ৬ লাখ টাকা দিতে পারেনি। পরের বছর ওই বকেয়া ৬ লাখ টাকাসহ পৌরকরের অংক বেড়ে যায়। এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মন্ত্রণালয়ে লেখা চিঠিতে আমরা বলেছি– পৌরকর পরিশোধের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিত বাজেট যেন মঞ্জুর করে।

পৌরকর আদায় কম হলে উন্নয়ন কাজে কোনো প্রভাব পড়ে কীনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কয়দিন আগে ইপিজেড এর ওখানে আমরা সড়কের কাজ করেছি। অথচ সেটা করার কথা ছিল ফ্লাইওভার নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাঙ–এর। কিন্তু জনগণের ভোগান্তি কমাতে আমরা সেটা করে দিয়েছি। সড়কের উন্নয়নে যে খরচ সেটা আমরা নিজস্ব ফান্ড থেকে ব্যয় করেছি। একইভাবে কোথাও লাইট নষ্ট বা অন্য কোনো সমস্যা হলে সেটাও রাজস্ব খাত থেকে ঠিক করতে হয়। এছাড়া হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তুকি দিতে হয়। এখন রাজস্ব আদায় না হলে নিজস্ব ফাণ্ডের কাজগুলো করতে তো সমস্যা হবে।

পত্রে যা লেখা হয়েছে : মন্ত্রণালয়ে দেয়া চসিকের চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। নগরবাসীর সার্বিক সেবা প্রদান নিশ্চিতকল্পে কর্পোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বাৎসরিক বেতন ভাতাদি নিয়মিত পরিশোধ, নগরের আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, সড়ক আলোকিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন ও নালা–নর্দমা সংস্কারপূর্বক জলাবদ্ধতা নিরসন ইত্যাদি বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ ব্যয় পৌরকর থেকে নির্বাহ করা হয়। তাই উন্নয়ন কাজ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ এবং পৌরকর দাবি বিল জারি অব্যাহত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পৌরকর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর হতে জানা যায়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখার স্বার্থে বকেয়াসহ হাল পৌরকর পরিশোধের লক্ষ্যে অধীনস্থ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় পত্রে। মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়ার বিষযটি আজাদীকে নিশ্চিত করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরের সরকারি প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিং আছে ১ হাজার ৩৮৩টি। সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মোট ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করে থাকে। তার মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। অবশ্য ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৭ শতাংশ গৃহকরের পাশাপাশি ৭ শতাংশ আর্বজনা রেইট, ৫ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বা সড়কবাতি রেইট এবং ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য রেইট আদায়ের ক্ষমতা আছে চসিকের।
কোন মন্ত্রণালয়ের কত বকেয়া : চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে চসিকের পাওনা ২৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বাইরে রেলপথসহ ২৫ মন্ত্রলালয়ের কাছে পাওনা ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ৯ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়য়ের কাছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬ হাজার টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৪ লাখ ২ হাজার টাকা, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৬ লাখ ৬ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ লাখ ৮২ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা গৃহকর পাবে চসিক।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের কাছে ১৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছে ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা পৌরকর পাবে চসিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ১৩ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বকেয়া পৌরকরের পরিমাণ হচ্ছে ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন