ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রশিক্ষিত জনবল ও ল্যাব সুবিধা ছাড়াই নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 28, 2026 ইং
প্রশিক্ষিত জনবল ও ল্যাব সুবিধা ছাড়াই নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: প্রশিক্ষিত জনবল ও ল্যাব সুবিধা ছাড়াই নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ
ad728
এম. আজগর সালেহী, চট্টগ্রাম।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার কাজিরহাট বাজারে পরিচালিত সেবা আধুনিক ইনভেস্টিগেশন সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয়মূলক নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন পূর্বে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেড মোহাম্মদ হান্নান ও ভোক্তা অধিকার এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের যৌথ অভিযানে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তাদের জরিমানা ও সতর্ক করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে পরিচিতি দিলেও অধিকাংশ পরীক্ষার নিজস্ব ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত রোগীদের কাছ থেকে রক্ত, প্রস্রাব, কফসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ইসিজি ও এক্স-রে সেবার ব্যবস্থা থাকলেও রক্ত, কফ, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরীক্ষা বাবদ রোগীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর নমুনা অন্যত্র পাঠানো হয়।

মেডিকেল সায়েন্স ও ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুযায়ী রক্ত, প্রস্রাব বা কফের নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল, সঠিক পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, সময়মতো পরিবহন এবং পরীক্ষার উপযোগিতা বজায় রাখার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নমুনা সংগ্রহের পর যথাযথ সংরক্ষণ না করা হলে রক্তের বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন, প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, কফের নমুনায় দূষণ কিংবা পরীক্ষার ফলাফলে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রক্তের কিছু নমুনা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা গেলেও অনেক পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন হয়। প্রস্রাবের নমুনা সাধারণত ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করা উত্তম এবং কফের নমুনাও দ্রুত পরীক্ষাগারে পাঠানো প্রয়োজন। যথাযথ রেফ্রিজারেশন, পরিবহন ব্যবস্থা ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ফলাফলের নির্ভুলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, গ্রামের এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানোর পর শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে গেলে অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না। চিকিৎসকরা পুনরায় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন, ফলে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

এ বিষয়ে সেবা আধুনিক ইনভেস্টিগেশন সেন্টারের ম্যানেজার অপু দের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাম্ভিকতার সহিত বলেন “এরকম সবাই করছে, আমরা করলে সমস্যা কী?”

এ ধরনের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্যরা কোনো কাজ করলেও সেটি বৈধতার প্রমাণ হতে পারে না।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ডাক্তার তৌহিদুল আলম বলেন, “ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও লাইসেন্সের শর্তাবলি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রশিক্ষিত জনবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং নমুনা সংরক্ষণ ও পরিবহনের যথাযথ ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এখন আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং নোট করতেছি, খুব দ্রুত এধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শের মাধ্যমে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি, লাইসেন্স যাচাই এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ জরুরি। অন্যথায় রোগ নির্ণয়ে ভুল, আর্থিক ক্ষতি এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার