খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
দীঘিনালা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তীব্র আপত্তির কারণে টানা দুই দিন স্থগিত হয়েছে। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা মুলতবি করা হয়।
বোয়ালখালী, কবাখালী ও বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেন, বোয়ালখালী ইউনিয়নের সার ডিলার মোহাম্মদ লোকমান চট্টগ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ডিলারশিপ পরিচালনা করেন এবং সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি ইস্পাহানি টি লিমিটেডের চট্টগ্রামের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালে ভোটার আইডি স্থানান্তর করে তিনি নিজেকে দীঘিনালার বাসিন্দা দেখালেও স্থানীয়রা জানান, তিনি এখানে একটি হোটেলে ভাড়া থাকেন।
নীতিমালার ধারা অনুযায়ী জেলার বাইরে থেকে কাউকে ডিলার নিয়োগের সুযোগ নেই—এ কারণে জনপ্রতিনিধিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। কবাখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন, “উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার না দিয়ে বাইরের কাউকে ডিলার করা ঠিক নয়।” বাবুছড়া চেয়ারম্যান গগণ বিকাশ চাকমা ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান।
যোগাযোগ করা হলে বর্তমান ডিলার মোহাম্মদ লোকমান বলেন, তিনি ২০০৯ সালের নীতিমালায় লাইসেন্স পেয়েছেন এবং ২০২৫ সালের নীতিমালাতেও এটি বহাল থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, নতুন নীতিমালায় জেলার বাইরে থেকে ডিলার নিয়োগের সুযোগ নেই। বর্তমানে ডিলারের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে আপত্তি উঠায় যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট