বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে এই চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাঁশখালী পূজা উৎযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু কান্তি পাল বলেন, এই মন্দিরটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির। এই মন্দিরটি আনুমানিক ১৭১০ খ্রীষ্টাব্দে প্রায় ৩১৬ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন জমিদার রাম সুন্দর শর্মা। তিনি স্বপ্নে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে মানিক পাঠান গ্রামের সোনাইছড়ি খালের পশ্চিমে ভেসে আসা নিম কাঠ দিয়ে মা কালীর প্রতিমা তৈরি করেন। পরবর্তীতে এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে এই মন্দিরে পূজার্চনা শুরু হয়। এই স্থানটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যা উপাসনা শেষ করে মন্দির পরিচালনার সকল কর্মচারিগণ তালা বন্ধ করে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় মন্দির ত্যাগ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার ভোর সকালে বাল্য ভোগ করা কার্তিক পাল এসে দেখতে পান গেইটের তালা ভেঙে মায়ের মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারের তালা ভেঙ্গে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে চোরের দল মায়ের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মায়ের মূর্তিতে পরিধিত অনুমানিক ৫ ভরি স্বর্ণলংকার সহ পূজার কাঁস-পিতলাদি চুরি করে নিয়ে যায়।
শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দির নামে পরিচিত এই মন্দিরে প্রতিদিন বাল্য ভোগ করা কার্তিক পাল বলেন, তাঁদের প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের পুরোনো এই মন্দিরে আগে কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় মন্দিরে প্রবেশ করে চুরির বিষয়টি টের পান তিনি। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান এবং থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবাস পাল
বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যা উপাসনা শেষ করে মন্দির পরিচালনার সকল কর্মচারিগণ তালা বন্ধ করে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় মন্দির ত্যাগ করেন। কিন্ত শনিবার রাত আনুমানিক ১২টা থেকে ৩ ঘটিকার সময় মায়ের মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারের তালা ভেঙ্গে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে চোরের দল মায়ের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মায়ের মূর্তিতে পরিধিত অনুমানিক ৫ ভরি স্বর্ণলংকার সহ পূজার কাঁস-পিতলাদি চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাকসী বলেন, মন্দিরের প্রবেশপথের গেইটের তালা ভেঙে চোর ঢোকে। মন্দিরের স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলংকার চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা অভিযোগ পেয়ে আন্তরিকতার সহিত তদন্ত করতেছি।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট