ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাইক বিক্রির টাকা বিলিয়ে দিলেন বন্যার্তদের মাঝে: বড়হাতিয়ার চেয়ারম্যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 15, 2026 ইং
বাইক বিক্রির টাকা বিলিয়ে দিলেন বন্যার্তদের মাঝে: বড়হাতিয়ার চেয়ারম্যান ছবির ক্যাপশন: বাইক বিক্রির টাকা বিলিয়ে দিলেন বন্যার্তদের মাঝে: বড়হাতিয়ার চেয়ারম্যান
ad728
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় যখন সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়, তখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষা না করে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নেন লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক। নিজের শখের মোটরসাইকেল বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নিজের মুদি দোকানের মালামাল মিলিয়ে ৩ লাখ টাকারও বেশি সহায়তা বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করেন তিনি। তার এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, বন্যার কয়েকদিন আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজের মোটরসাইকেলটি বিক্রি করেন আজিজুল হক। কিন্তু টানা বর্ষণে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলে চারদিক থেকে অসহায় মানুষের আহাজারি শুনে তিনি সেই টাকা নিজের প্রয়োজনে ব্যয় না করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি ত্রাণ পৌঁছানোর আগেই তিনি রাতের অন্ধকারে পানি পেরিয়ে দুর্গম এলাকায় গিয়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিতরণ করেন। অনেক দুর্গত মানুষ তার বাড়িতে এসে আশ্রয় ও সহায়তা পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।
তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এনসিপির লোহাগাড়া উপজেলা আহ্বায়ক তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "বন্যার শুরু থেকে এই মানুষটা বড়হাতিয়াবাসীর জন্য যথেষ্ট করেছেন। স্যালুট আজিজ ভাই। এভাবেই মানুষের পাশে থাকুন। এর প্রতিদান মহান আল্লাহ দেবেন।"
মো. রিদোয়ান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "এমন মানবিক চেয়ারম্যান প্রতিটি ইউনিয়নে দরকার।" তছলিম উদ্দিন নামে আরেকজন লিখেছেন, "আজিজ ভাই একজন সমাজসেবক। বড়হাতিয়ার জন্য তিনি অতুলনীয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক বলেন, "বাইকটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ দেখে সেই টাকা নিজের জন্য খরচ করতে মন সায় দেয়নি। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাইক বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কখন শেষ হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। পরে আমার মুদি দোকান থেকেও অনেক টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। এতে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। মানুষের উপকার করতে পারলেই আত্মতৃপ্তি পাই।

তিনি আরও বলেন, "২০২৪ সালে ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময়ও বড়হাতিয়াবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করেছিলাম। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট