কামরুল সিফাতউল্লাহ |চট্টগ্রাম পোস্ট
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে সরকারের আয় বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। তবে সম্ভাব্য এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাইকার ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে।
নগর জীবনে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বহু মানুষের জীবিকারও প্রধান ভরসা। সেই খাত থেকেই এবার নতুন করে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সিসিভেদে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে
টাকা রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, শুধু রাজধানীতেই ১০ থেকে ১৪ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে। সারাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ।
তবে কর আরোপের খবরে অস্বস্তিতে পড়েছেন বাইকার ও অটোরিকশাচালকেরা। তাদের আশঙ্কা, নতুন করের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই চাপবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, মোটরসাইকেল অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই বড় সিসির মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হতে পারে।তবে অটোরিকশাকে করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হলে এর দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তার মতে, অটোরিকশাজনিত দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তা রাজস্ব আয়ের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও কর আরোপের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট