মুহিবুল হাসান রাফি, চট্টগ্রাম।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের পরও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিপিসি চেয়ারম্যান কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে কার্যালয় স্থানান্তরের গোপন চিঠি পাঠানোর ঘটনা ফাঁসের পর পুরো চট্টগ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও গণঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ধরে রাখতে বিপিসি চেয়ারম্যানের অবিলম্বে পদত্যাগ ও অপসারণ দাবি করেছে নাগরিক উন্নয়ন সংগঠন "সচেতন চট্টলাবাসী"।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল "সচেতন চট্টলাবাসী"।পরবর্তীতে সর্বস্তরের নাগরিক, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক এবং সচেতন মহলের তীব্র প্রতিবাদের পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সাফ ঘোষণা দেন যে, "বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে আছে এবং চট্টগ্রামেই থাকবে।" মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তৎকালীন পূর্বঘোষিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছিল সংগঠনটি।কিন্তু মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর গত ১৭ জুন বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান পুনরায় প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর জোর সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। এই চিঠি ফাঁসের পর চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা বলছেন, দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি, প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জ্বালানি খাতের সামগ্রিক মূল অবকাঠামো চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। চট্টগ্রামের জয়পাহাড়ে বিপিসির নিজস্ব প্রধান কার্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণে রাষ্ট্রের প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করার পর এই সিদ্ধান্তকে জনগণের করের টাকার চরম অপচয় ও চট্টগ্রামবাসীর সাথে স্পষ্ট প্রতারণা।
এদিকে সচেতন চট্টলাবাসী আরও জানায়, চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে তারা ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট ১২ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রদান করেছেন। এই ১২ দফা দাবির মূল লক্ষ্যই হলো চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মর্যাদা রক্ষা করা। অথচ সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে বিপিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে ঢাকায় স্থনান্তরের পাঁয়তারা চলছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকারের শীর্ষ মহলের প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা না করে যিনি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেই চেয়ারম্যানের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংগঠনের দাবি, ১৭ জুন বিপিসির চেয়ারম্যান পুনরায় প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রদান করেছেন বলে তারা অবগত হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছে এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।একই সঙ্গে সচেতন চট্টলাবাসী চট্টগ্রামে বিপিসির জন্য নির্মিত প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫ তলা ভবনে দ্রুত কার্যক্রম স্থানান্তর, বাকলিয়ায় বরাদ্দকৃত স্থানে স্থায়ী ও আধুনিক প্রধান কার্যালয় নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট