ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে শ্রুতি পালের মৃত্যু: ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বন্ধুকে হয়রানির অভিযোগ পরিবারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং
মিরসরাইয়ে শ্রুতি পালের মৃত্যু: ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বন্ধুকে হয়রানির অভিযোগ পরিবারের ছবির ক্যাপশন: ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বন্ধুকে হয়রানির অভিযোগ পরিবারের
ad728
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কলেজছাত্রী শ্রুতি পালের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে তানভীরের পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে মিরসরাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তানভীরের পরিবারের সদস্যরা বলেন, শ্রুতি পালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার তারাও চান। তবে বিচার যেন তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হয় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার যেন না হন।

তাদের দাবি, এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আগেই তানভীরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেলে শ্রুতি পাল তার বন্ধু তানভীর হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও রিসবী সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে ফেনী থেকে মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উত্তর ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে তানভীর ও শ্রুতিকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত ট্রাক ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় শ্রুতি গুরুতর আহত হন এবং তার বন্ধু মোটরসাইকেল চালক তানভীরও আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রুতিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তানভীরের আচরণ ও বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ তানভীর ও আশরাফকে হেফাজতে নেয় এবং শ্রুতির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরসরাই থানায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা টিটু পাল।

নিহত শ্রুতি পাল (২০) ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও হোমিও চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকায়।

অপরদিকে, তানভীর হোসেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের উত্তর বৈতিয়ারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রবাসফেরত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তানভীরের বড় বোন নাবিলা আক্তার বলেন, 'মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। 
আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।'

তানভীরের মা হাছিনা খাতুন বলেন, 'আমার ছেলে আমাকে বলেছে সে কোনো অপরাধ করেনি। মেয়েটির সঙ্গে তার পরিচয় ছিল এবং তারা ঘুরতে গিয়েছিল। নির্দোষ হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে এমন মামলা হয়েছে, যা মেনে নিতে পারছি না।'

তানভীরের ছোট মামা মোহাম্মদ বিজয় বলেন, 'দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখলে বোঝা যায় এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। তারপরও তাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক, সেটাই চাই।'

অন্যদিকে নিহতের বাবা টিটু পাল দাবি করেন, 'এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শ্রুতির বন্ধু রিসবী সুলতানা আমাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। তানভীরের কথাবার্তাও অসংলগ্ন মনে হয়েছে। তাই আমরা মামলা করেছি।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, 'নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স