মঞ্জুরুল ইসলাম, লংগদু প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ের ঢালু জমিতে এবার আদা, হলুদসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া আর বাজারের চড়া দাম—দুইয়ে মিলে নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন লংগদু উপজেলার চাষিরা। পাহাড়ে মসলা চাষের এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যবদলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
মূলত কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে দক্ষ করে তুলতে এবং পাহাড়ে মসলার উৎপাদন আরও বাড়াতে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) লংগদুতে দিনব্যাপী কারিগরি আলোচনা, মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ প্রশিক্ষণে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন।
হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা স্বপন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উদ্যানতত্ত্ববিদ আসিফ মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আসিফ মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি জমিতে এখন আর সনাতন পদ্ধতি নয়, বরং আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে আদা ও বিভিন্ন মসলা চাষ হচ্ছে। পাহাড়ে উৎপাদিত এই মসলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা কৃষকদের দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে। কৃষকদের যেকোনো ধরনের কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহযোগিতা দিতে হর্টিকালচার সেন্টার সবসময় মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মসলা রোপণ, পরিবেশবান্ধব উপায়ে রোগবালাই দমন এবং ফলন কয়েক গুণ বাড়ানোর বিভিন্ন আধুনিক কৌশল হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মসলা চাষ একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে অত্যন্ত লাভজনক। সরকারি সহযোগিতা ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে পাহাড়ের এই মসলা চাষের ধারা আগামীতে আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট