ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 15, 2026 ইং
লোহাগাড়ায় প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা ছবির ক্যাপশন: লোহাগাড়ায় প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা
ad728
আব্দুল ওয়াহাব লোহাগাড়া চট্টগ্রাম: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে  দেশীয় পদ্ধতিতে ন্যাচারাল খাবারের মাধ্যমে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন লোহাগাড়ায় খামারিরা।কোরবানির ঈদ কে ঘিরে খামারে বাড়তি পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ পরিচর্চা করা হচ্ছে। সারা বছর যত্নে লালন-পালন করা পশু বিক্রি করে বড় লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গরুর খামারিরা।

উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ আধুনগরের মছদিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘আল বয়ান অ্যাগ্রো’ নামে একটি খামারে  সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়। বিগত ৮বছর পুর্বে কয়েকজন বন্ধু মিলে শখের বসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে খামারটি সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি প্রস্তুত করেছেন ৫০টির মত গরু।

খামারটিতে প্রতিটি গরুকে বাজার উপযোগী করে তুলতে বিশেষ খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর। ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চলছে এই বাড়তি যত্ন।

আল বয়ান এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারি মোঃ খোরশেদ আলম জানান, তাঁর খামারে দেশীয় বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। গরুর জাত ও আকারভেদে প্রতিটি গরু ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা। তিনি তার খামারে একদম ন্যাচারাল খাবার গুলো ব্যবহার করছেন।তার খামারে ৪০টির মত দেশীয় গরু ও ১০টির মত মহিষ রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। খামারের গরু গুলো আশানুরূপ দাম পেলে ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশের বাহির থেকে গরু আসরে দেশের খামারিরা ক্ষতির সম্মুখ হতে পারে।

খামারের কর্মী বেলাল বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাব।’

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, খামারের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরাও। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার কোরবানির বাজারে গরুর ন্যায্যমূল্য পাবেন খামারিরা।

স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তাঁরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চাহিদা ৩০হাজার ৩১৫ টি প্রস্তুত আছে।তার মধ্যে গরু ২৪হাজার ৩৫৭টি, ২ হাজার ৫৬টি মহিষ, ছাগল ১০হাজার ২৫০, ভেড়া ৬শ ২৮টি সহ মোট ৩৭হাজার ২৯১ টি উদ্বৃত্ত ৬হাজার ৯৭৬টি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতুভূষণ দাশ বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০০র অধিক হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারীকে নিরাপদ গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ১০৮টি গরুর খামার পরিদর্শন করে প্রাণিসেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞানসম্মত ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ৬০টি উঠান বৈঠক পরিচালনা করা হয়। কোরবানির পশুর মাংস যেন ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ থাকে সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ পশুখাদ্য নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে। আসন্ন কোরবানির হাটে সুস্থ পশু ক্রয় বিক্রয় নিশ্চিত করতে মোবাইল ভেটেরিনারি সেবা চালু করা হবে। এজন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কেউ ক্ষতিকর পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে কোন ধরণের পশুর হাট বসানো যাবে না। মহাসড়কের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে ইতিমধ্যে ইজারাদেরকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসালো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন