প্রবীর সুমন (দীঘিনালা)খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অবমূল্যায়নের বিষয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা কমান্ডার মোঃ সেলিম মুক্তিযোদ্ধায় তার অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “অগণিত মানুষের ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে আমরা এই দেশ ও স্বাধীনতার পতাকা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও বাস্তবে আমরা সেই সম্মান পাচ্ছি না। বিভিন্ন সরকারি অফিসে গেলে আমাদের মূল্যায়ন তো দূরের কথা , অনেক সময় বসার জায়গাটুকুও দেওয়া হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশে এখন হাতে গোনা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছি। আমরা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। বাকি যে কয়টি দিন বাঁচবো, অন্তত সেই সময়টুকু যেন আমাদের ন্যূনতম সম্মান ও মর্যাদা টুকু পেতে পারি এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ ও আক্ষেপের কথা শুনে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তানজিল পারভেজ উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন,
“সময়ের পরিক্রমায় আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই হারিয়ে গেছেন। যারা এখনো বেঁচে আছেন, তারা অধিকাংশই অত্যন্ত বয়স্ক ও সম্মানিত মানুষ। তারা যখনই আমাদের দপ্তরে আসবেন, তখন তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও আশ্বাসদেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে সকল সংশ্লিষ্টকে সচেতন করা হবে।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মতো একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই আক্ষেপ উপস্থিত সকলে তাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দেয়।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট