ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে গরু চোর চক্র, সালিশে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 27, 2026 ইং
সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে গরু চোর চক্র, সালিশে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা! ছবির ক্যাপশন: সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে গরু চোর চক্র, সালিশে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা!
ad728
(লংগদু) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের বিরুদ্ধে গরু, ছাগল ও দোকানের মালামাল চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রটি সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি সোনাই এলাকার সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের নাম এর মূল হোতা হিসেবে সামনে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইনীমুখ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারা মিয়ার নেতৃত্বে বিল্লাল, নেজাম, রফিকুল ও আকতারসহ একটি বড় চক্র দীর্ঘদিন ধরে লংগদুর বিভিন্ন এলাকায় চুরির সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছে।

সম্প্রীতি সোনাই এলাকার বাসিন্দা সাবিনা বেগমের একটি গরু চুরি হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হলে তারা চুরির ঘটনা স্বীকার করে। চোরদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সাবেক মেম্বার তারা মিয়ার নেতৃত্বেই গরু চুরি করে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে জবাই করা হয়। পরে সাত-আট জন মিলে মাংস ভাগ করে নেওয়ার পর অবশিষ্টাংশ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

চক্রটির বিরুদ্ধে শুধু গবাদিপশুই নয়, দোকানপাট ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্প মেশিন চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বশির জানান, কিছুদিন আগে গভীর রাতে তার দোকান ভেঙে টেলিভিশন ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় এই চক্রের সদস্যরা। পরবর্তীতে জানা যায়, চুরি করা টেলিভিশনটি সোনাই এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত মোবাইল, পাম্প মেশিন ও ছাগল চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, গত ২৫ মে সোমবার এই চোর চক্রের সদস্যদের আটক করার পর মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন (কমল) এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। বিচারে চোর চক্রের প্রধান তারা মিয়াসহ জড়িতদের আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

চোর চক্রের এমন অপরাধের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সচেতন মহল। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এলাকায় চুরির রাজত্ব কায়েম করেছে। চুরির ঘটনায় শুধু আর্থিক জরিমানা করে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং চুরির উপদ্রব চিরতরে বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস